মালদা, নিউজ ডেস্ক: ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ফোটেনি। প্রতিদিনের মতোই বাড়ির কাজে ব্যস্ত ছিলেন এক গৃহবধূ। হঠাৎ বাড়ির বাইরে ঘটে যায় এমন এক ঘটনা, যার পর মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় গোটা পরিস্থিতি। তাঁর চিৎকারে ছুটে আসেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু ততক্ষণে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়েছিলেন ওই মহিলা। আতঙ্কে শুরু হয় ছোটাছুটি। পরে তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
মালদা মোথাবাড়ি থানা এলাকার একটি গ্রামে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। আর তাতে বাধা দেওয়াই ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁকে খুনের চেষ্টা করারও অভিযোগ ওঠে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় ওই মহিলার স্বামী ভিন রাজ্যে কর্মরত ছিলেন। ভোরে বাড়িতে ধান সেদ্ধ করেছিলেন ওই মহিলা। কিছুক্ষণ পর বাড়ির পিছনে জল ফেলতে বাইরে যান তিনি। অভিযোগ, সেই সময়েই স্থানীয় এক ব্যাক্তি তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং ধর্ষণের চেষ্টা করে।
পরিবারের দাবি, ওই মহিলা বিষয়টি বুঝতে পেরে চিৎকার করে শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে ডাকতে শুরু করেন। তাঁর চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা ছুটে আসতেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠে বলে দাবি পরিবারের। অভিযোগ, ধারালো অস্ত্র দিয়ে মহিলার গলাতে ও পিঠে একাধিকবার কোপ মারা হয়। পরিবারের লোকজন এগিয়ে আসার আগেই অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গিয়েছেন বলে অভিযোগ। পরে, রক্তাক্ত ওই মহিলাকে দ্রুত উদ্ধার করে মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের দাবি, তাঁর গলাতে ১২টি এবং পিঠে ৯টি সেলাই পড়েছে। অর্থাৎ মোট ২১টি সেলাই করতে হয়েছে তাঁর ক্ষতস্থানে।
নির্যাতিতার দিদির দাবি, বোনের চিৎকার শুনে পরিবারের লোকজন বেরিয়ে আসতেই অভিযুক্ত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এরপর তাঁরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনার পর মোথাবাড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক। পুলিশ তাঁর সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার পাশাপাশি ঘটনার নেপথ্যে ঠিক কি ছিল, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।




