নিউজ ডেস্ক: পাহাড়ের চূড়া থেকে সূর্যাস্তের দৃশ্য লেন্সবন্দি করতে গিয়ে চরম হেনস্থা ও শ্লীলতাহানির শিকার হতে হল এক নাবালিকাকে। বিহারের জামুই জেলার মারওয়া পাহাড়ি এলাকায় একদল যুবকের তথাকথিত 'নীতিপুলিশি' ও বর্বর আচরণের দৃশ্য প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে টিউশন শেষে ঘুরতে গিয়ে এই নির্মম অভিজ্ঞতার মুখে পড়তে হয় ওই কিশোরীকে। ঘটনায় যুক্ত সন্দেহে এখনও পর্যন্ত তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ, যাদের প্রত্যেকেই নাবালক। পুরো ঘটনার শিকড় খুঁজতে ইতিমধ্যে বিশেষ তদন্তকারী দল বা 'সিট' গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
দেখুন: https://x.com/iRahulsingh_IND/status/2102041798290149792?s=20
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, জামুই ও লক্ষ্মীসরায় সংযোগকারী মূল রাস্তা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার ভেতরের দিকে মারওয়া পাহাড়ের অবস্থান। শহর থেকে কিছুটা দূরে হলেও মনোরম সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখার জন্য এলাকাটি পরিচিত। শনিবার বিকেলে টিউশন পড়া শেষ করে এক বন্ধুর স্কুটারে চেপে সেখানে ছবি তুলতে গিয়েছিল ওই কিশোরী। কিন্তু ফেরার মুখেই তাদের পথ আটকে দাঁড়ায় সাত থেকে আট জনের একটি দল। নির্জন রাস্তার সুযোগ নিয়ে তারা কিশোর ও কিশোরীকে ঘিরে ফেলে জেরা শুরু করে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, চরম আতঙ্কে হাতজোড় করে বারবার ক্ষমা চাইছে দুই পড়ুয়া। আর কোনোদিন তারা ওই এলাকায় পা রাখবে না বলে কাকুতি-মিনতি করলেও মন গলেনি দলটির। উল্টে কিশোরকে মারধর শুরু করা হয় এবং দুজনের জোর করে বিয়ে দিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় অভিযুক্তরা। একপর্যায়ে মুখ ঢাকা এক যুবক অসহায় কিশোরীর গায়ে হাত তোলে ও চরম অশালীন আচরণ করে।
গোটা ঘটনায় জামুই মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দীপ্তি মোনালির নেতৃত্বে বিশেষ দল কাজ শুরু করেছে। ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে মোট সাত জনকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে জোরদার তল্লাশি চলছে। পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা জানিয়েছেন, রবিবারের আগে পরিবারের তরফে বিষয়টি থানায় জানানো হয়নি। পরে সোমবার কিশোরীর বাবার লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরেই পকসো ও হেনস্থার ধারায় পূর্ণাঙ্গ মামলা রুজু করে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। জনবহুল নয় এমন পর্যটন এলাকায় নজরদারির ঘাটতি নিয়েই এখন প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।