সামান্য অসাবধানতা ও কয়েক মুহূর্তের গাফিলতি, তাতেই বলি হল তিন তিনটে প্রাণ। ঘটনা বহরমপুর এলাকার। জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে বহরমপুরের কর্ণসুবর্ণ লেভেল ক্রসিংয়ে একটি ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গেটম্যানের অবহেলা এবং নেশাগ্রস্ত অবস্থায় দায়িত্ব পালনের জেরেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।
অভিযোগ, গেটম্যান প্রায়শই মদ ও গাঁজার নেশায় ডুবে থাকত। অনেক সময় গেট বন্ধ করে তা খুলতে ভুলে যেতো, কখনো আবার গেট খোলা রেখে দিতো। বার বার অভিযোগ জানানো সত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শুক্রবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গেট বন্ধ করতে ভুলে যায় গেট ম্যান। সেই সময় যাতায়াত করছিলেন অনেকেই। লেভেল ক্রসিং খোলা থাকায় দ্রুতগতিটে ট্রেন ধাক্কা মারে একটি পুলকার ও এক সাইকেল আরোহীকে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তিন জনের।
দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা গেটম্যানকে কেবিনে আটকে তালাবন্ধ করে রাখে। পরে বহরমপুর থানার পুলিশ গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার জেরে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে গেটম্যান ও তার সুপারভাইজারকে সাসপেন্ড করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। রেলের পক্ষ ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই থেকে সাত সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।
রেল পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তার দাবি, 'শুধু গেটম্যানকে দায়ী করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তিনি স্থায়ী কর্মী না আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত, যথাযথ প্রশিক্ষণ ছিল কি না, সব দিক খতিয়ে দেখতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি উঠলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।'
ঘটনার পর এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কোনো প্রশাসনিক গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও রেলের তদন্তকারী দল। গোটা এলাকা একেবারে থমথমে হয়ে রয়েছে।




