নিউজ ডেস্ক: নির্বাচনী তালিকার Special Intensive Revision (SIR) ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে কথিত মতপার্থক্যের খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। এবার সেই বিতর্কে সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করলেন Cockroach Janta Party (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক। বুধবার এক্স-এ পোস্ট করে তিনি জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভারতের শত্রু’ বলে উল্লেখ করেন এবং অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। তাঁর এই মন্তব্য অবশ্য তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক অভিযোগ; এর স্বাধীন প্রমাণ হিসেবে নির্বাচন কমিশনের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিজিৎ দীপকের মন্তব্যের সূত্রপাত হয়েছে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের পর। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী গত প্রায় ১০ মাসে কমিশনের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্তত ১৪ বার আপত্তি নথিভুক্ত করেছিলেন। অভিযোগগুলির মধ্যে ছিল ভোটার তালিকা সংশোধন, নতুন ভোটারদের জন্য Form 6-এ পরিবর্তন, ভোটার ডেটাবেসে প্রবেশাধিকার, পশ্চিমবঙ্গে ভোটারদের নাম সংক্রান্ত আপিল এবং গোয়ায় যোগ্য ভোটারদের তালিকাভুক্তির সমস্যা।
এই রিপোর্টের পরই অভিজিৎ দীপক সামাজিক মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর পোস্টে ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ যাওয়ার দাবিও করা হয়। তবে এই সংখ্যাগুলি এবং তার সঙ্গে যুক্ত সিদ্ধান্তগুলি তাঁর অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে; নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দাবিগুলিকে সমর্থন করে কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে বিতর্কের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের তরফে পাল্টা অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। কমিশন সূত্রের দাবি, SIR-সহ গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্তই তিন নির্বাচন কমিশনারের অনুমোদনে নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং নির্বাচন কমিশনার বিবেক যোশী—তিনজনের অনুমোদনেই সিদ্ধান্তগুলি গৃহীত হয়েছে বলে কমিশনের বক্তব্য।
প্রসঙ্গত, প্রকাশিত রিপোর্টে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে Form 6। নতুন ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার জন্য এই ফর্ম ব্যবহার করা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, ফর্মে আগের SIR-এর ভোটার তালিকার সঙ্গে আবেদনকারীর বা তাঁর পরিবারের সম্পর্কিত তথ্য জানতে নতুন প্রশ্ন যুক্ত করা হয়েছিল। এই পরিবর্তনের আইনি ভিত্তি নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ভোটার ডেটাবেস নিয়েও প্রশ্ন সামনে এসেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকার ডিজিটাল ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে কি না, তা নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, আইন অনুযায়ী যাঁদের ভোটার তালিকা পরিচালনার দায়িত্ব রয়েছে, তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
পশ্চিমবঙ্গও এই বিতর্কের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। SIR-পরবর্তী ভোটার তালিকা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আপিল এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বিচারিক পর্যায়ে ভোটারদের অন্তর্ভুক্তি বা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে করা কিছু আপিলের অনুমোদন ও প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।
গোয়াতেও প্রযুক্তিগত সমস্যার একটি ঘটনা সামনে এসেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ৯৭ জন ভোটারকে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা যোগ্য বলে বিবেচনা করলেও সফটওয়্যার-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে তাঁদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ফলে একদিকে দুই নির্বাচন কমিশনারের কথিত আপত্তির বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে—SIR-সহ সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতভাবেই অনুমোদিত হয়েছে। এই দুই বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্যই এখন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। SIR-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া চলতে থাকায় নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি, নাম বাদ দেওয়া, তথ্য যাচাই এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা, সবকিছু নিয়েই নজর রয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।
