কলকাতা: রাজ্য রাজনীতিতে ফের সামনে এল জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তার প্রশ্ন। একদিকে জেড প্লাস নিরাপত্তা প্রত্যাহারের পর ফের নিরাপত্তা চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, পরপর হামলার অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। সোমবার কুণালের মামলায় দ্রুত শুনানির আবেদন অবশ্য খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট।
বিধানসভা নির্বাচনের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একাধিক পরিবর্তন হয়েছে। তাঁর জেড প্লাস নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে সাংসদ হিসেবে প্রাপ্য নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়ির সামনে থেকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা পরিকাঠামোর কিছু অংশও সরানো হয়। সম্প্রতি বাড়ির সামনে থাকা পুলিশ কিয়স্ক সরানোর খবরও প্রকাশ্যে এসেছে।
এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ফেরানোর আবেদন নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিষেক। তাঁর আবেদনে নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিবর্তনের বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে।
এর মধ্যেই কুণাল ঘোষকে ঘিরে পরপর হামলার অভিযোগে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শনিবার শ্রীরামপুরে একটি সভায় যাওয়ার পথে উত্তরপাড়ায় তাঁর গাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে। কুণালের দাবি, গাড়ি লক্ষ্য করে ইট, পাথর, ডিম-সহ বিভিন্ন জিনিস ছোড়া হয় এবং গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। ঘটনার জেরে তিনি সভায় পৌঁছতে পারেননি বলে জানান।
এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রবিবার বেলেঘাটায় ফের তাঁর গাড়ি ঘিরে হামলার অভিযোগ ওঠে। কুণালের দাবি, ১৫-২০ জনের একটি বাইকবাহিনী তাঁর গাড়িকে অনুসরণ করে ফুলবাগান এলাকায় সেটি ঘিরে ফেলে। হামলাকারীরা হাতুড়ি দিয়ে গাড়ির কাচ ভাঙার চেষ্টা করে এবং আগ্নেয়াস্ত্র দেখানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে শেষ পর্যন্ত নারকেলডাঙা থানায় গাড়ি নিয়ে ঢুকে পড়েন বলে জানান বিধায়ক।
ঘটনার পর কুণাল ঘোষ নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হচ্ছে। যদিও হামলার অভিযোগ নিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করা হয়েছে, এই ঘটনায় তাদের যোগ নেই।
এই পরিস্থিতিতেই সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে যান কুণাল। তাঁর আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে বিষয়টি তুলে ধরে দ্রুত শুনানির আবেদন করেন। আদালত মামলা দায়ের করার অনুমতি দিলেও জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন খারিজ করে দেয়। বিচারপতি জানান, নিয়ম মেনেই মামলাটি শুনানির তালিকায় আসবে।
এদিকে, কুণালের উপর হামলার অভিযোগের তদন্তও শুরু হয়েছে বলে খবর। বেলেঘাটা থানায় একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ফলে একই সময়ে অভিষেকের নিরাপত্তা ফেরানোর আবেদন এবং কুণালের নিরাপত্তা সংক্রান্ত মামলাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক পরিবর্তনের প্রভাব কতটা, এবং পরপর হামলার অভিযোগের পর প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর।
