শিলিগুড়ি, স্নিগ্ধা চৌধুরী: রাজ্যে বিজেপি সরকারের ১০০ দিন পূর্তির আবহে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক কাজের প্রশংসা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার শিলিগুড়িতে এসএসবি-র একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রের সমন্বয় এবং সীমান্ত নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি। একইসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও প্রকাশ্যে আনেন শাহ।
এসএসবির অনুষ্ঠানে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে শাহ বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার বিষয়ে রাজ্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন হলে দ্রুত অনুমোদন পাওয়া যাচ্ছে। শাহর কথায়, “শুভেন্দুজির প্রশংসা করতে চাই। উনি আসার পর সীমা সুরক্ষা নিয়ে আমাদের যখনই কোনও সহযোগিতার প্রয়োজন হয়েছে, ফোন করলেই পারমিশন পাওয়া যায়। চিঠি তো পরে যায়।”
প্রশাসনিক তৎপরতার উদাহরণ হিসেবে বিএসএফ ও এসএসবির জন্য জমি দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে চাওয়া ১১২৯ একর জমি নতুন সরকার গঠনের মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে দেওয়া হয়েছে। তবে আরও ২৯ একর জমি বাকি ছিল বলে জানান তিনি। শুক্রবার সকালে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সেই জমি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান শাহ। তাঁর দাবি, প্রয়োজনীয় অর্থ পেলেই পরের দিন ওই জমির অনুমোদন দেওয়া হবে বলে তাঁকে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এরপরই শুভেন্দুর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রসঙ্গ তোলেন শাহ। তিনি বলেন, “শুভেন্দুজি আমার বন্ধু, আমি ওঁকে বুঝি।” দু’জনের মধ্যে বাংলার উন্নয়ন এবং রাজ্যের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা হয় বলেও জানান তিনি।
শাহর বক্তব্যে সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশ রোখার প্রসঙ্গও উঠে আসে। তাঁর দাবি, শুভেন্দু অধিকারী বোঝেন যে অনুপ্রবেশ বন্ধ না করলে পশ্চিমবঙ্গ তথা দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সীমান্তে কাঁটাতারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রী অবগত বলে জানান তিনি।
এদিন আগের তৃণমূল সরকারের সঙ্গেও বর্তমান সরকারের তুলনা করেন শাহ। তাঁর অভিযোগ, এসএসবি বা বিএসএফ কোনও রাজনৈতিক দলের সংগঠন নয়, তারা দেশের সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনী। তাই জওয়ানদের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সুসম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। এই প্রসঙ্গে আগের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এসএসবির অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি বলে দাবি করেন শাহ।
সীমান্ত সুরক্ষার জন্য জমি দেওয়ার প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও সরব হন তিনি। শাহ বলেন, “মমতাজিকে হাত জোড় করে বলেছিলাম”। তাঁর দাবি, বারবার আবেদন সত্ত্বেও আগের সরকারের আমলে প্রয়োজনীয় জমি পাওয়া যায়নি। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে বলেই বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক গতিকে সামনে আনেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
শুভেন্দু সরকারের ১০০ দিন পূর্তির সময়ে অমিত শাহর বক্তব্যে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি, তিনটি বিষয়ই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।