নিউজ ডেস্ক: জনপ্রিয় অভিনেতা নানা পাটেকারের আকস্মিক মৃত্যুতে এখন শোকের ছায়ায় আচ্ছন্ন গোটা বলিউড। বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ সমগ্র চলচ্চিত্র মহল। কঠিন এই দুঃসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই সহকর্মী থেকে বন্ধু, পরিচিতজন সকলেই নানা’র সঙ্গে কাটানো স্মৃতি, তাঁর বর্ণময় ব্যক্তিত্ব ও দীর্ঘ অভিনয় জীবনের কথা স্মরণ করেছেন। নানা’র অত্যন্ত কাছের মানুষ ছিলেন অনুপম খের। নানা আর নেই তাঁকে স্মরণ করে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে একটি ভিডিও বার্তায় অনুপম কার্যত কান্নায় ভেঙে পড়েন।
অনুপম খের জানান, এই নিষ্ঠুর মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার আগে তিনি দেশের বাইরে, ওয়াশিংটনে নাটকের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। ‘জানে আনজানে পহচানে’ নাটকটি মঞ্চস্থ হচ্ছিল। শো শেষ হয়ে যাওয়ার পর গ্রিনরুমে পৌঁছাতেই পরিচালক গজেন্দ্র তাঁকে এই দুঃসংবাদটি দেন। মুহূর্তের মধ্যেই ভেঙে পড়েন অনুপম। কেবলমাত্র পেশাগত দায়বদ্ধতার কারণেই নাটকটি সম্পূর্ণ করেন এবং বাধ্য হয়েই হাসিমুখে কিছু ছবিও তোলেন অনুরাগীদের অনুরোধে। সেই পরিস্থিতির নিষ্ঠুরতার কথাই জানান অনুপম তাঁর ভিডিওর প্রথম দিকে।
অনুপম আরও বললেন নানা’র স্বভাবের কথা। নানা বেঁচে থাকলে হয়তো এত শোকবার্তা, শ্রদ্ধাঞ্জলির হিড়িক দেখে নিজেই স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বলে উঠতেন “আরে কী হয়েছে এতে, আমি নেই তো কী হয়েছে? সবাইকেই তো চলে যেতে হয়!” এই অমায়িক, অকপট স্বভাবের কারণেই নানা হয়তো অন্যদের তুলনায় আলাদা ছিলেন।
এরপর বন্ধুর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের নানা স্মৃতি বলতে গিয়ে অনুপম কার্যত কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁর কথার সূত্র ধরে বলা যায় নানা’কে দেখলে বোঝার উপায় ছিল না, সেও যে কোনওদিন চলে যেতে পারে। তিনি ছিলেন সেই ধরনের মানুষ। নানা রাগ করলে অনুপম গান গেয়ে যাঁকে শান্ত করতেন, সেই মানুষটি আজ নেই। অনুপম বলেন, হয়তো নানা’র উদারতা এবং ভালোবাসাই আসলে লুকিয়ে থাকত সেই সব রাগের মধ্যে।
বর্ষীয়ান জনপ্রিয় এই চলচ্চিত্র অভিনেতার প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন মিঠুন চক্রবর্তী, মনোজ বাজপেয়ী, পঙ্কজ ত্রিপাঠী-সহ বলিউডের বহু গুণীজন। নানা’র এই আকস্মিক চলে যাওয়ায় তৈরি হল এক অপূরণীয় শূন্যস্থান, যা কখনও পূরণ হবে না।