বদলের বাংলায় প্রথমবার ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শুক্রবার ভবানীপুরে আয়োজিত হল ‘তেরঙ্গা যাত্রা’। নিজের বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই এই কর্মসূচির সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিকেলে সার্ভে বিল্ডিং থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত আয়োজিত মিছিলে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পা মেলান বিপুল সংখ্যক মানুষ। গোটা মিছিলজুড়ে চোখে পড়ে জাতীয় পতাকার উপস্থিতি।
মিছিলে ভবানীপুরের বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী তাপস চট্টোপাধ্যায়, স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন-সহ দলের একাধিক নেতা-কর্মী। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই মিছিলের নেতৃত্ব দেন। মিছিল ঘিরে এলাকায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়।
হাজরা মোড়ে পৌঁছে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, ভবানীপুর থেকেই ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচির সূচনা করা হল। মিছিলে সাধারণ মানুষের বিপুল অংশগ্রহণের জন্য তিনি সকলকে ধন্যবাদ জানান। আগামী ১০ আগস্ট আরও বড় ‘তেরঙ্গা যাত্রা’ আয়োজনের কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি জানান, ১০ আগস্ট নেতাজি মূর্তি থেকে শুরু হবে ওই মিছিল। প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐতিহাসিক তেরঙ্গা যাত্রার পরিকল্পনা করা হয়েছে। মিছিলটি বিড়লা তারামণ্ডলের ৭ নম্বর গেট পর্যন্ত যাবে বলেও জানান তিনি। এই কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের ভাবনা মানুষের মধ্যে আরও শক্তিশালী করতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের আগে রাজ্যজুড়ে জাতীয় পতাকা নিয়ে একাধিক কর্মসূচি হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
এদিন শুধু ‘তেরঙ্গা যাত্রা’ নয়, নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে দিনভর একাধিক কর্মসূচিতেও অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী। দুপুরে তিনি ভবানীপুরের একটি গুরুদ্বারে যান। সেখানে গেরুয়া পাগড়ি এবং সাদা পোশাকে প্রার্থনায় অংশ নেন তিনি। পরে গুরুদ্বারের লঙ্গরেও সেবার কাজে যোগ দেন।
ভক্তদের খাবার পরিবেশনের পাশাপাশি বাসন ধোয়ার কাজও করতে দেখা যায় তাঁকে। এরপর অন্যদের সঙ্গে বসে লঙ্গরের খাবার খান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ভবানীপুরের বিধায়ক এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মানুষের পাশে থেকে সেবার কাজ করাকে তিনি দায়িত্ব বলে মনে করেন।
স্বাধীনতা দিবসের আগে ভবানীপুরে এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে যথেষ্ট উৎসাহ তৈরি হয়েছে। আগামী ১০ আগস্টের বড় মিছিলের দিকে এখন নজর থাকবে।