কথায় আছে, অতি লোভে তাঁতী নষ্ট। এ বার কি সেই দশাই হতে চলেছে মহম্মদ আমিরের? ব্রিটেনের নাগরিকত্ব পাওয়ার পর ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে সম্প্রতি স্থানীয় ক্রিকেটারের মর্যাদা পেয়েছেন আমির। এতে তাঁর আইপিএলে খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হলেও, নিজের দেশের লিগ পিএসএলে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছেন তিনি। কারণ, ব্রিটেনের নাগরিকত্ব পাওয়ার পর এখন থেকে আর তিনি পাক ক্রিকেটার হিসেবে গণ্য হবেন না।
গত জুন মাসে তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পেয়েছেন আমির। ফলে এখন থেকে ইংল্যান্ডের সমস্ত ঘরোয়া প্রতিযোগিতাতেই স্থানীয় ক্রিকেটার হিসেবে খেলতে পারবেন। বর্তমানে তিনি নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে নামতে চলেছেন ভাইটালিটি ব্লাস্টে। পাশাপাশি, দ্য হান্ড্রেডে ট্রেন্ট রকেটসের হয়েও খেলবেন। তবে এর ফলে সমস্যা দেখা দিয়েছে পাকিস্তান সুপার লিগে তাঁর খেলা নিয়ে।
২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বইয়ের সন্ত্রাসবাদী হামলার পরই আইপিএলে নিষিদ্ধ করা হয় পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের। তবে বর্তমানে আমির যেহেতু ব্রিটিশ নাগরিক, তাই ভবিষ্যতে আইপিএলের দরজা খুলে যেতেই তাঁর জন্য। কিন্তু নাগরিকত্ব বদলাতেই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে পিএসএলে। উল্লেখ্য, এ বছরের প্রতিযোগিতায় রাওয়ালপিন্ডির হয়ে খেলেছিলেন আমির এবং চুক্তি অনুযায়ী আগামী মরশুমেও তাঁর দলে থাকার কথা। কিন্তু এখন নাগরিকত্ব বদলে যাওয়ায় যেহেতু তিনি আর স্বদেশী ক্রিকেটার নন। ফলে সেই চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
যদিও ৩৫-এ পা দিতে চলা আমির আইপিএলেও সুযোগ পাবেন কি না প্রশ্ন থাকতে পারে সেখানেও। ব্রিটিশ নাগরিক হওয়ার সুবাদে এর আগে পাকিস্তানের হয়ে খেলা মাত্র একজন ক্রিকেটারই আইপিএলে খেলার সুযোগ পেয়েছেন ২৬/১১ পরবর্তী সময়ে। তিনি আজহার মাহমুদ। এই তালিকায় দ্বিতীয় হিসেবে মহম্মদ আমিরের নামটি জুড়বে কি না তা সময়ই বলবে। তবে এ বার থেকে নিজের দেশের লিগেই তাঁকে যদি খেলতে হয়, খেলতে হবে বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে। সেক্ষেত্রে কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজি আদৌ একটি বিদেশি স্লট তাঁর জন্য খরচ করতে চাইবে কি না, তা নিয়ে রীতিমতো সন্দিহান বিশেষজ্ঞ মহল।
সব মিলিয়ে নাগরিকত্ব বদলে আমিরের যেন এখন এ কুল ও কুল, দুকুলই হারানোর মতো অবস্থা। আইপিএলে সুযোগ পাবেন কি না তার ঠিক নেই। অন্যদিকে পাকিস্তানের লিগে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা। যদিও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের তরফে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। ক্রিকেট অনুরাগীদের চোখ এখন কার্যত সেদিকেই।