প্রিয় কুকুরকে নিয়ে কটাক্ষ করেছেন নিজের ভাই। আর এর নিদান দিল স্থানীয় তাবড় তৃণমূল নেতা। ভাইকে কোপাল দাদা। এক কোপে ব্যবসায়ীর হাত ও কান কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠল স্থানীয় তৃণমূল নেতা ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে। বাধা দিতে গেলে দুষ্কৃতীরা শূন্যে গুলি চালায় বলেও অভিযোগ। মঙ্গলবার রাতে মালদহের কালিয়াচকের সুজাপুরে ঘটা এই হাড়হিম করা ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মূল অভিযুক্ত আরিফ আলি সুজাপুর পঞ্চায়েতের প্রাক্তন তৃণমূল প্রধান ও বর্তমান সদস্য। আক্রান্ত খামার ব্যবসায়ী ইসরাফিল শেখের স্ত্রী সাহেদা খাতুন আরিফ ও তার কেয়ারটেকার আমান-সহ পাঁচজনের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। সিসিটিভি ফুটেজও পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। নারকীয় এ ঘটনার সাক্ষী রইল মালদহ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩১-শে জুলাই ইসরাফিলের ভাই তৌফিক রাস্তায় আমানকে 'প্রধানের কুকুর' বলে কটাক্ষ করেন। আর এই ঘটনার মাশুল দিতে হল ব্যবসায়ীকে। মানুষ নয়, বাড়ির কুকুরকে কটাক্ষ করায় মাশুল দিতে হল কান।জানা যায়, আমান বিষয়টি আরিফকে জানালে, ওই রাতেই তৌফিকের ওপর হামলা হয়। তৌফিক থানায় অভিযোগ জানালেও, পরে সালিশি সভার মাধ্যমে বিষয়টি মিটিয়ে নেন। কিন্তু আক্রোশ মেটেনি।
সাহেদা জানান, মঙ্গলবার রাতে বাড়ির পাশে নিজেদের ছাগল-মুরগির খামারে খাবার দিতে গিয়েছিলেন ইসরাফিল। তখনই আরিফ ও তার দলবল হাঁসুয়া নিয়ে সেখানে হামলা চালায়। তৌফিককে না পেয়ে তারা ইসরাফিলের হাত ও কান কেটে দেয়। পরিবারের লোকজন ছুটে গেলে দুই রাউন্ড শূন্যে গুলি ছুড়ে পালায় দুষ্কৃতীরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইসরাফিলকে রাতেই মালদহ মেডিক্যাল কলেজ থেকে কলকাতার একটি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। সেখানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি।ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
মালদহের পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়েছে। পলাতক আরিফ ও তার দলবলের খোঁজে তল্লাশি চলছে। তবে এমন এক অমানবিক ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে কিনা তার খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ।