আমতলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমপি কার্যালয়ের ভবন ভাঙাকে কেন্দ্র করে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই ভবনের বর্তমান অবস্থাই বজায় রাখতে হবে। অর্থাৎ, নতুন করে আর কোনও ভাঙচুর বা নির্মাণ করা যাবে না। তবে ভবন থেকে পুলিশ জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে আদালত এই মুহূর্তে কোনও হস্তক্ষেপ করেনি।
রবিবার জরুরি শুনানিতে আবেদনকারী সংস্থা লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস-এর পক্ষে আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতে দাবি করেন, শনিবার থেকেই ভবন ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পঞ্চায়েত আইন অনুযায়ী ভবনের প্রকৃত মালিককে শুনানির নোটিস দেওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। পরিবর্তে কোম্পানির এক ডিরেক্টরের নামে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। মাত্র সাত দিনের সময় দিয়ে ১৫ জুলাই শুনানির দিন ধার্য করা হয়, যা আইনসঙ্গত নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
আইনজীবীর বক্তব্য, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা পরিষদ সুশান্ত মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে পদক্ষেপ করে। কিন্তু অভিযোগের কপি, ভাঙার নির্দেশের কপি কিংবা সংশ্লিষ্ট নথি আবেদনকারীকে দেওয়া হয়নি। সংবিধানের ৩০০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অভিযোগের কপি পাওয়ার অধিকার থাকলেও তা লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে আদালতে দাবি করা হয়। পাশাপাশি বেআইনি নির্মাণ হলেও প্রথমে মালিককে নিজে থেকে ভাঙার সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল বলেও যুক্তি দেন তিনি।
এর জবাবে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র বলেন, শুনানি হঠাৎ হওয়ায় সমস্ত নথি সঙ্গে আনা সম্ভব হয়নি। তবে গত ১৩ জুনই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, কোন আইনের ভিত্তিতে ওই নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, ভবনটির কোনও অনুমোদন ছিল না এবং এটি সম্পূর্ণ বেআইনি নির্মাণ। আদালত যদি এই ধরনের নির্মাণে স্থগিতাদেশ দেয়, তাহলে তা বেআইনি নির্মাণকে উৎসাহিত করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুনানির সময় বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী জানতে চান, জমির মালিক আদৌ জেলা পরিষদের নোটিস সম্পর্কে অবগত ছিলেন কি না। একই সঙ্গে জেলা পরিষদের আইনজীবীর কাছে প্রশ্ন তোলেন, ভাঙার নির্দেশের কপি আবেদনকারীকে দেওয়া হয়েছিল কি না।
জেলা পরিষদের পক্ষে আইনজীবী তাপস মণ্ডল জানান, এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের পরিদর্শন রিপোর্টে দেখা যায়, অনুমোদিত সীমার চেয়ে প্রায় ৬.৫ মিটার বেশি উচ্চতার নির্মাণ হয়েছে। এই ধরনের নির্মাণের জন্য জেলা পরিষদের অনুমতি বাধ্যতামূলক হলেও তা নেওয়া হয়নি। তিনি আরও দাবি করেন, যে জমিতে ভাঙার কাজ চলছে তার দাগ নম্বর ৫০৭, অথচ আবেদনকারী ৫০৯ নম্বর দাগের জমির কথা উল্লেখ করেছেন।
এর পাল্টা যুক্তিতে কিশোর দত্ত বলেন, আইন অনুযায়ী ভবন ভাঙার আগে মালিককে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া উচিত ছিল। সেই সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে প্রশাসন জরিমানা বা অন্য পদক্ষেপ নিতে পারত। কিন্তু আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ না দিয়েই তড়িঘড়ি ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শুনানিতে আরও উঠে আসে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা পরিষদের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার ২৫ জুনের পরিদর্শন রিপোর্টে ভবনটিকে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের কার্যালয় হিসেবে চিহ্নিত করে জানান, এর কোনও বৈধ অনুমোদন নেই। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই হিয়ারিং অফিসার ভবন ভাঙার নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে, আবেদনকারী পক্ষের অভিযোগ ছিল, ভাঙার সময় পুলিশ ভবন থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে এবং সেখানে লুটপাট হয়েছে। আদালতের কাছে সেই সামগ্রী ফেরতের আবেদনও জানানো হয়। তবে বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী এই পর্যায়ে সেই আবেদনে কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে অস্বীকার করেন।
ফলে আপাতত হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, আমতলার এমপি কার্যালয়ের বর্তমান অবস্থাই বজায় থাকবে। মামলাটি নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য উঠলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।




