পশ্চিম মেদিনীপুর, নিউজ ডেস্ক: স্বামীর মৃত্যুর মাত্র তিন মাসের মধ্যেই এক যুবতীর বাড়িতে অন্য এক যুবককে দেখতে পেয়ে চাঞ্চল্য ছড়াল পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ ওই যুবক ও যুবতীকে আটকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন বলে অভিযোগ। এমনকী, যুবতীর মুখে চুন মাখানোরও অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দু’জনকে থানায় নিয়ে যায় চন্দ্রকোনা থানার পুলিশ। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। কারণ, ওই যুবতীর স্বামীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল মাত্র তিন মাস আগে। তাঁর মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। যদিও এই বিষয়ে পুলিশের তদন্ত বা কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা এখনও জানা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর তেইশের ওই যুবতীর শ্বশুরবাড়ি চন্দ্রকোনা পুরসভার গোঁসাইবাজার জহরপুকুর এলাকায়। তিনি ও তাঁর স্বামী দু’জনেই হায়দরাবাদে কাজ করতেন বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি। মাস তিনেক আগে তাঁরা বাড়িতে ফিরেছিলেন। সেই সময় দম্পতির মধ্যে পারিবারিক অশান্তি হয়েছিল বলেও স্থানীয়দের একাংশ জানিয়েছেন। এরপরই বাড়ি থেকে যুবতীর স্বামীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।
এরপর মঙ্গলবার ওই যুবতীর বাড়িতে এক অপরিচিত যুবককে দেখতে পান কয়েকজন প্রতিবেশী। তাঁরা ওই যুবক সম্পর্কে জানতে চান। স্থানীয় এক বাসিন্দার দাবি, যুবতী প্রথমে জানান, ওই যুবক তাঁর মাসিমার ছেলে। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয়রা তাঁর আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যরা ওই যুবককে চেনেন না বলে জানান বলে দাবি স্থানীয়দের।
এর পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ যুবক ও যুবতীকে আটকে ফেলেন। অভিযোগ, দু’জনকেই একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয় এবং যুবতীর মুখে চুন মাখিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভিড় জমে যায়।
এক প্রতিবেশীর দাবি, হায়দরাবাদে থাকার সময়ই ওই যুবকের সঙ্গে যুবতীর পরিচয় হয়েছিল। ওই যুবকের বাড়ি সুন্দরবন এলাকায় বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এই সম্পর্কের প্রকৃতি বা ঘটনার পিছনে প্রকৃত কারণ কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
খবর পেয়ে চন্দ্রকোনা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দু’জনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যুবতী এবং ওই যুবকের পরিবারের সদস্যদের থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে পুলিশ সূত্রে খবর। সেই কারণে তাঁদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে বলেও জানা গিয়েছে।
তবে গোটা ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে, কোনও অভিযোগ বা তদন্ত ছাড়াই কীভাবে স্থানীয় বাসিন্দারা দু’জনকে প্রকাশ্যে শাস্তি দেওয়ার মতো পদক্ষেপ করতে পারেন। স্বামীর মৃত্যুর সঙ্গে বর্তমান ঘটনার কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়। পাশাপাশি ওই যুবক-যুবতীর বিরুদ্ধে আদৌ কোনও অপরাধের অভিযোগ রয়েছে কি না, সেটিও পুলিশি তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়।
চন্দ্রকোনার এই ঘটনায় তাই একদিকে যেমন স্বামীর মৃত্যুর পুরনো রহস্য ঘিরে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে প্রকাশ্যে দু’জনকে খুঁটিতে বেঁধে রাখার অভিযোগও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। এখন পুলিশের তদন্তেই পরিষ্কার হবে, ঘটনার নেপথ্যে আসলে কী রয়েছে।
