যন্তর মন্তরের আন্দোলনের গণ্ডি পেরিয়ে এ বার দেশজুড়ে প্রচারে নামছে ককরোচ জনতা পার্টি ওরফে সিজেপি। 'ক্যায়া বোলতি পাবলিক' নামে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা করলেন দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজি নগরে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরে যুব সমাজের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবে সিজেপি। শিক্ষা, বেকারত্ব, কর্মসংস্থান, সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা-সহ একাধিক ইস্যুতে মানুষের মতামত জানাই হবে এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
দিপকের দাবি, দেশের ৬৫ শতাংশের বেশি মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নীচে হলেও তাঁদের শিক্ষা, চাকরি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক দল বা সরকারের কোনও আগ্রহ নেই। তাঁর অভিযোগ, সরকার প্রকৃত সমস্যা থেকে নজর ঘোরাতে ধর্মীয় রাজনীতিকেই সামনে রাখছে। দিল্লির আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ওই আন্দোলন শুধুমাত্র কোনও মন্ত্রীর ইস্তফার দাবি ছিল না, বরং সাধারণ মানুষের মনে সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলার সাহস তৈরি করেছে। এখন মানুষ শুধু প্রশ্নই করবে না, প্রয়োজন হলে রাস্তাতেও নামবে।”
প্রচার অভিযানের মূল ইস্যু হিসেবে শিক্ষাকেই সামনে রেখেছে সিজেপি। দিপকের অভিযোগ, স্কুল থেকে কলেজ, সর্বত্রই শিক্ষার খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে। প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির পড়ুয়ার বার্ষিক ফি-ও এক থেকে দেড় লক্ষ টাকায় পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে শিক্ষাকে ব্যবসায় পরিণত করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি বেকারত্বের প্রশ্নও তোলেন। তাঁর দাবি, ডিগ্রিধারী যুবকদের বড় অংশ কাজ পাচ্ছেন না, বাধ্য হয়ে অনেকে অস্থায়ী বা স্বল্প আয়ের পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে যুব সমাজই পরিবর্তনের পথ দেখাবে বলেও দাবি করেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা।
এ দিকে দিপকে যখন দেশজুড়ে পথে নামার ডাক দিয়েছেন, ঠিক তখনই জেপিএসসি পরীক্ষা সংক্রান্ত দুর্নীতিতে উত্তাল ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচি। রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে ১৪ দিনব্যাপী আন্দোলনের পাশাপাশি আমরণ অনশনে বসেছেন ৬ জন শিক্ষার্থী। শুক্রবার তাঁদের সঙ্গে দেখা করেন আইসা'র সভানেত্রী তথা ককরোচ আন্দোলনের অন্যতম মুখ নেহা বোরা। আন্দোলনকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে পুনরায় ১৪তম জেপিএসসি পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন নেহা। অন্যদিকে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস-কাণ্ডে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার প্রসঙ্গ টেনে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছেন আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা।