নিউজ ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর প্রভাবে ক্রমশ বাড়ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা। পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর পেরিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়েছে এই ঘূর্ণিঝড়। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়ের স্থায়ী গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ পৌঁছতে পারে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটারে। ভোর ৪টের সময় ঘূর্ণিঝড় অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূল অতিক্রম করেছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় আগে থেকেই কোমর বেঁধে নেমেছিল অন্ধ্রপ্রদেশ প্রশাসন। উপকূলবর্তী এলাকা থেকে প্রায় ২ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু প্রশাসনিক আধিকারিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। উদ্ধার, ত্রাণ এবং পরবর্তী পুনরুদ্ধারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল একাধিক ব্যবস্থা।
অন্যদিকে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব মোকাবিলায় ওড়িশাতেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পাঁচটি বিপজ্জনক জেলা থেকে ১ লক্ষ ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু গঞ্জাম জেলা থেকেই সরানো হয়েছে প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ। পরিস্থিতি বিবেচনা করে আরও বহু মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
শুধু ঝড় নয়, ভারী বৃষ্টির আশঙ্কাও বাড়াচ্ছে উদ্বেগ। অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী এলাকা এবং রায়লসীমায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ু, দক্ষিণ ওড়িশা এবং ছত্তিশগড়ের কিছু এলাকাতেও জারি রয়েছে সতর্কতা। স্থলভাগে প্রবেশের পর ঘূর্ণিঝড় দুর্বল হলেও বৃষ্টির দাপট অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে পরিবহণ ব্যবস্থাতেও। খারাপ আবহাওয়ার কারণে বিজয়ওয়াড়া, বিশাখাপত্তনম, তিরুপতি ও চেন্নাই বিমানবন্দর মিলিয়ে অন্তত ৩০টি অভ্যন্তরীণ উড়ান বাতিল করা হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বাতিল করা হয়েছে ৯টি ট্রেনও।
বিদ্যুৎ পরিষেবা সচল রাখতে প্রায় ৩১ হাজার বিদ্যুতের খুঁটি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তামিলনাড়ুর তরফেও অন্ধ্রপ্রদেশকে সাহায্যের জন্য ৯০ জন সদস্যের তিনটি এনডিআরএফ দল এবং বিদ্যুৎ দফতরের ৫০০ কর্মী পাঠানো হয়েছে।
এদিকে উপকূলবর্তী নিচু এলাকায় ১ থেকে ১.৫ মিটার পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল আবহাওয়া দফতর। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। আপাতত ঝড়ের গতিপথ, বৃষ্টির পরিমাণ এবং ক্ষয়ক্ষতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন।




