স্পোর্টস ডেস্ক: ম্যাচের শেষ ভাগে লিয়োনেল মেসির জাদু! পিছিয়ে থেকেও নিউ ইংল্যান্ড রেভলিউশনকে ২-১ গোলে হারাল ইন্টার মায়ামি। একটি গোল করার পাশাপাশি একটি গোলে সহায়তাও করলেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা। তাঁর দুরন্ত পারফরম্যান্সেই গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট পেল মায়ামি। এই জয়ের ফলে মেজর লিগ সকারের ইস্টার্ন কনফারেন্সে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল তারা। নিয়মিত মরসুমের আর মাত্র একটি ম্যাচ বাকি থাকতে এই জয় মায়ামির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিউ ইংল্যান্ডের ঘরের মাঠ গিলেট স্টেডিয়ামে খেলতে নেমেছিল ইন্টার মায়ামি। প্রথমার্ধে দু’দলই গোলের সুযোগ তৈরি করলেও জালে বল জড়াতে পারেনি কেউ। ম্যাচের ২৮ মিনিটে জার্মান বেরতেরামের শট আটকে দেন নিউ ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক ম্যাট টার্নার। অন্য দিকে, ৩৭ মিনিটে পেটন মিলারের পাস থেকে গোল করার সুযোগ পেয়েছিল নিউ ইংল্যান্ড। কিন্তু সেই প্রচেষ্টাও কাজে আসেনি। ফলে গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যায় নিউ ইংল্যান্ড। ৫৩ মিনিটে ড্যানিয়েল গাজদাগের গোলে ১-০ করে স্বাগতিকেরা। ইলাই ফেইনগোল্ডের পাস থেকে বল পেয়ে নিখুঁত শটে মায়ামির জালে বল জড়িয়ে দেন তিনি। গোল খেয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় মায়ামি। তবে ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন মেসিরা।
৬৫ মিনিটে সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল মায়ামি। মেসির শট বাঁচিয়ে দেন টার্নার। ফিরতি বলে বেরতেরামের প্রচেষ্টা গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন নিউ ইংল্যান্ডের ব্রুকলিন রেইনস। তবে আরও চার মিনিট অপেক্ষা করতে হয় মায়ামিকে। ৬৯ মিনিটে মেসির দুরন্ত হেড থেকে বল পেয়ে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন বেরতেরামে। ১-১ করে ম্যাচে ফেরে মায়ামি। এই গোলে মেসির অ্যাসিস্ট সংখ্যা দাঁড়ায় ১৬। এর পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে মায়ামি। ৮৩ মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত গোল। লুইস সুয়ারেজের পাস থেকে বল পেয়ে কয়েক জন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে এগিয়ে যান মেসি। টেলাসকো সেগোভিয়ার সঙ্গে পাস খেলে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের নিচু শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। ২-১ গোলে এগিয়ে যায় মায়ামি। চলতি এমএলএস মরসুমে এটি মেসির ২৬তম গোল। গোলের দৌড়ে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।
শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রেখেই মাঠ ছাড়ে মায়ামি। ম্যাচে বলের দখলে কিছুটা এগিয়ে ছিল নিউ ইংল্যান্ড। তাদের দখলে ছিল ৫৪ শতাংশ বল। মায়ামির দখলে ৪৬ শতাংশ। তবে গোলের সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল অতিথিরা।
এই জয়ের ফলে ৩৩ ম্যাচে ৫৯ পয়েন্ট নিয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল ইন্টার মায়ামি। ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে গেল নিউ ইংল্যান্ড। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে খেলার যোগ্যতাও অর্জন করল মায়ামি।
মরসুমের শেষ ম্যাচে শার্লট এফসির মুখোমুখি হবে মায়ামি। তার আগে মেসির এই পারফরম্যান্স দলকে যেমন আত্মবিশ্বাস জোগাবে, তেমনই এমএলএসের প্লে-অফের আগে প্রতিপক্ষদের জন্যও সতর্কবার্তা। বয়স বাড়লেও গোল করার ক্ষুধা যে একটুও কমেনি, আরও এক বার বুঝিয়ে দিলেন মেসি।




