নিউজ ডেস্ক: বিভিন্ন সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। কুণাল ঘোষের উপর পরপর হামলার অভিযোগ থেকে শুরু করে SRFTI-কাণ্ড, বোলপুরে বিজেপি বুথ সভাপতির মৃত্যু, হরিদেবপুরে ক্লাবে হামলা, ব্যাংক ধর্মঘট স্থগিত এবং নীতিন নবীনের বঙ্গ সফর একাধিক বিষয়ে মন্তব্য করেন তিনি।
কুণাল ঘোষের উপর পরপর হামলার প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, কুণাল যত বেশি ভাষণ দেবেন, মানুষের রাগ তত বাড়বে। তাঁর কটাক্ষ, অন্য নেতারা কেন ডিম খাচ্ছেন না, কুণালকেই বারবার কেন এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে। একইসঙ্গে কুণালকে ‘সাবধানে’ থাকার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, মানুষ যে রায় দিয়েছে, সেটি মেনে নেওয়া উচিত। বেলেঘাটায় নির্বাচিত হওয়ার পর সেখানকার মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়া নিয়েও কুণালকে কটাক্ষ করেন দিলীপ।
SRFTI-তে সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিলীপের দাবি, বাংলায় দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও ‘দেশবিরোধী’ শক্তি সক্রিয় ছিল। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের ছত্রছায়ায় তারা টিকে ছিল। তিনি বলেন, দেশের সংস্কৃতি ও পরম্পরার বিরোধী কার্যকলাপ মানুষ মেনে নেবে না। বহিরাগতদের জড়িত থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি ঘটনাটিকে ‘সমাজবিরোধী কার্যকলাপ’ বলে মন্তব্য করেন এবং এমন ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না বলে জানান।
বোলপুরে বিজেপির বুথ সভাপতির দেহ উদ্ধারের ঘটনাতেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে এখনও বিক্ষিপ্ত হিংসার ঘটনা ঘটছে, যা তাঁদের কাছে একটি চ্যালেঞ্জ। বিষয়টি স্বরাষ্ট্র দফতর দেখছে বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, এই ধরনের হিংসার ঘটনা বন্ধ করা হবে।
অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও কটাক্ষ করেন দিলীপ। তাঁর মন্তব্য, মমতার উপরেই কেউ ভরসা করেন না এবং তিনি ‘মাসে মাসে ভরসা পাল্টান’। কার হাত ধরে তিনি রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকবেন, সেটিই এখন দেখার বলে মন্তব্য করেন বিজেপি নেতা।
হরিদেবপুরের অজেয় সংহতি ক্লাবে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগে বিজেপির দিকে আঙুল ওঠা নিয়েও পাল্টা জবাব দেন দিলীপ। তাঁর বক্তব্য, কোনও ঘটনার পর বিজেপির দিকে অভিযোগ ঠেলে দেওয়া এখন ‘সহজ পন্থা’। বিজেপির এমন কাজে কোনও রুচি নেই বলেও দাবি করেন তিনি। বাংলায় দীর্ঘদিন ধরে হিংসার রাজনীতি চলে এসেছে দোষীদের চিহ্নিত করতে সময় লাগবে বলে মন্তব্য তাঁর।
ব্যাংক ধর্মঘট স্থগিত হওয়া নিয়েও মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর মতে, কথায় কথায় ধর্মঘট করা একটি ‘ফ্যাশন’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব বলেও জানান তিনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলবেন বলে আশা প্রকাশ করেন দিলীপ।
এদিকে বিজেপির সর্বভারতীয় সংগঠন সম্পাদক নীতিন নবীনের বঙ্গ সফর নিয়েও বিস্তারিত মন্তব্য করেন তিনি। দিলীপ জানান, নীতিন নবীন রাজ্যের কর্মী ও নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন। রাত পর্যন্ত বৈঠক হয়েছে এবং আজও বৈঠক চলবে বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, বাংলায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি বিজেপির সংগঠনেও পরিবর্তন আসবে। কর্মীদের মানসিকতা, দায়িত্ব বণ্টন এবং সাংগঠনিক ভূমিকা নিয়ে পৃথক নির্দেশিকা এসেছে বলেও জানান দিলীপ। তাঁর কথায়, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।
