বিশ্বকাপ বিক্রির পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত সদস্য দেশগুলির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হল ফিফা। তবে পাশাপাশি সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবিও উড়িয়ে দিয়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। বুধবার মরক্কোর রাবাতে জরুরি বৈঠকে ফিফার নির্বাহী কর্তারা প্রকাশ্যেই সভাপতির পাশে দাঁড়িয়ে জানিয়ে দিয়েছেন, ২১১টি সদস্য দেশের ভোটে নির্বাচিত ইনফান্তিনোর ওপর তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।
বিশ্বকাপের বেসরকারিকরণের পরিকল্পনাকে ঘিরে গত কয়েক দিন ধরেই তীব্র চাপ তৈরি হয়েছিল ফিফার অন্দরে। বিশ্বকাপসহ একাধিক প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক অধিকার পরিচালনার জন্য ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ নামে একটি পৃথক সংস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছিলেন ইনফান্তিনো। প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সেই সংস্থার ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে ৪২০ কোটি ডলার তোলার লক্ষ্য ছিল ফিফার। পাশাপাশি সদস্য দেশগুলিকে রাজি করাতে ২০২৭ সালে এককালীন ২ কোটি ডলার দেওয়া এবং ২০২৭ থেকে ৩০-এর সাইকেলে অনুদান ৮০ লক্ষ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ডলার করার প্রস্তাবও রাখা হয়েছিল।
কিন্তু সেই পরিকল্পনা সামনে আসতেই কার্যত ঝড় ওঠে ফুটবল দুনিয়ায়। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা উয়েফা প্রকাশ্যেই বিরোধিতা করে এই পরিকল্পনার। পাশাপাশি প্রয়োজনে ভবিষ্যতের বিশ্বকাপ বয়কটের হুঁশিয়ারিও দেয়। ওয়েলস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে। ক্রমে ফিফার অন্দরেও ছড়িয়ে পড়ে ক্ষোভের আগুন। সদস্যদের উদ্দেশ্যে পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ বার্তায় গোটা ঘটনাকে ‘দুঃখজনক এবং নিন্দনীয়’ বলে উল্লেখ করেন মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম। ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে গত ১ অগাস্ট শেষ পর্যন্ত এই প্রকল্প প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হন ইনফান্তিনো।
রাবাতের জরুরি বৈঠকের পর সদস্য দেশগুলিকে পাঠানো এক চিঠিতে ফিফা স্বীকার করেছে, গোটা প্রক্রিয়ায় একাধিক ভুল হয়েছে। সংস্থার বক্তব্য, আলোচনার পদ্ধতি, যোগাযোগ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হওয়া উচিত ছিল। কাউন্সিল বা সদস্য দেশগুলিকে বাদ দেওয়ার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না বলেও দাবি করেছে তারা। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, কীভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হল, তা খতিয়ে দেখতে অভ্যন্তরীণ তদন্ত হবে এবং পরবর্তী ফিফা কাউন্সিল বৈঠকে সেই রিপোর্ট পেশ করা হবে।
তবে ভুল স্বীকার করলেও ইনফান্তিনোর নেতৃত্বে আস্থা হারায়নি ফিফার শীর্ষ মহল। গ্রাফস্ট্রম-সহ নির্বাহী কর্তারা যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, প্রশাসনিক ত্রুটি থাকলেও ফিফার আইন বা বিধি লঙ্ঘনের কোনও প্রমাণ মেলেনি। ফলে ইনফান্তিনোর পদত্যাগের কোনও প্রশ্নই ওঠে না। অন্যদিকে ফিফা সভাপতিও মহাসচিব এবং প্রশাসনিক কর্মীদের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন। যদিও সমালোচকদের দাবি, এই ঘটনা ফিফার জুরিখ সদর দফতর এবং জাতীয় ফুটবল সংস্থাগুলির মধ্যে বিশ্বাসের সম্পর্কে বড় ধাক্কা দিয়েছে। বিতর্কিত এফএফই পরিকল্পনা আপাতত অতীত। এখন ফের ‘ফিফা ফরওয়ার্ড’ প্রকল্পের মতো বিদ্যমান উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতেই জোর দেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা।