প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে রুটি রুজির টানে সমুদ্রের পাড়ি দেন মৎস্যজীবীরা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই আর ঘরে ফেরা হয় না তাদের। প্রকৃতির ভয়ঙ্কর তাণ্ডবের প্রাণ হারায় মৎস্যজীবীরা। আবারো মাছ ধরতে গিয়ে জলে তলিয়ে গেল এক মৎস্যজীবীর।
জানা গিয়েছে, বুধবার বিকেলে ডায়মন্ড হারবারের রায়চক সংলগ্ন হুগলি নদীতে মাছ ধরতে যায় তিনজন মৎস্যজীবী।প্রবল বৃষ্টি, ঘনঘন বিদ্যুৎ চমক আর হঠাৎ নৌকার একেবারে পাশেই বিকট শব্দে বজ্রপাত। আতঙ্কে প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেন তিনজনই। দু'জনকে উদ্ধার করা গেলেও হুগলি নদীর উত্তাল স্রোত গিলে নিল ৩৫ বছরের মৎস্যজীবী নাজমুল মোল্লাকে। ঘটনাকে ঘিরে শোকোস্তব্ধ এলাকার মানুষজন।
পুলিশ সূত্রে খবর, নিখোঁজ মৎস্যজীবী নাজমুল মোল্লা দক্ষিণ ২৪ পরগনার রামনগর থানার শিমুলবেড়িয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি রোদের মতো এইদিনও নিজের সঙ্গীদের নিয়ে নদীতে মাছ ধরতে গেছিলেন। বিকেলের পর থেকে আবহাওয়া খারাপ হতে শুরু করে। শুরু হয় প্রবল বর্ষণ। একের পর এক বজ্রপাতের কেঁপে ওঠে চারিদিক।
একটা সময় নৌকার পাশেই বাজ পড়ে মুহূর্তে তারা তিনজন নদীতে ঝাঁপ দেন। তাদের চিৎকার শুনে আশপাশে মাছ ধরতে থাকা অন্য মৎস্যজীবীরা দ্রুত উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দীর্ঘ চেষ্টার পর দু'জনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও নাজমুলকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে প্রবল স্রোতে তিনি তলিয়ে গিয়েছেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রামনগর থানার পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স ও উদ্ধারকারী দল। সন্ধ্যা পর্যন্ত নদীর বিস্তীর্ণ এলাকায় তার খোঁজে তল্লাশি চালানো হলেও শেষ পর্যন্ত আর খুঁজে পাওয়া যায়নি নাজমুলকে। পরে আবহাওয়ার অবস্থা আরো অবনতি হওয়ায় উদ্ধারকার্য বন্ধ করতে বাধ্য হন উদ্ধারকারীরা। ঘটনার খবর পেয়ে নদীর ধারে ছুটে আসেন নাজমুলের পরিবারের সদস্যরা। কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা।
বর্ষাকালে বজ্রপাত ও দুর্যোগের কারণে বারংবার সতর্কবার্তা দেওয়া হয় মৎস্যজীবীদের জন্য। কিন্তু রুটির উচিত তাগিদে তাদের যেতে হয় মাছ সংগ্রহ করতে। পরিণতি ভয়ানক হলেও ছুট যান তারা।