লাগাতার ভারী বৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ ও সিকিম। একের পর এক জায়গায় নামছে ধস। উপরে পড়ছে গাছ। এর জেরে একাধিক জায়গায় বন্ধ হয়ে পড়েছে রাস্তা। পাহাড়ের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। দার্জিলিং থেকে মিরিক শিলিগুড়ি থেকে সিকিম একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সবচেয়ে বৃহৎ যে ধ্বস নেমেছে তা হলো সিকিমের ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের ২০ মাইল ও বারদাং এলাকায়। এর ফলে এই এলাকায় একেবারেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে যান চলাচল। তবে বিকল্প হিসেবে সচল রয়েছে রংপো–শিলিগুড়ি রুট। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাওয়ানে চেওরিবোটে ডুগা রুট ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
দার্জিলিং-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যালরোড। মঙ্গলবার সকালে ডলফিন হোটেলের কাছে একটি বড় গাছ উপরে পড়ে। এর ফলে সাময়িকভাবে যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে যায়। কুইক রেসপন্স টিমের তৎপরতায় ওই গাছটি সরিয়ে ফেলা হয়। পরবর্তীতে সচল হয় রাস্তা। এদিকে শিলিগুড়ি–মিরিক সড়কের গয়াবাড়ি এলাকায় ধস নেমে রাস্তার উপর গাছ ভেঙে পড়ায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে গাছ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। ফলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে যাত্রী ও পর্যটকেরা।
এছাড়াও সিকিমের পাকিয়ং, মাঙ্গান, নামচি, গ্যালশিং ও সোরেং জেলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও ধসের জেরে যান চলাচল সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি আগামী ৫ -ই আগস্ট পর্যন্ত বিশেষ ট্রাফিক বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে মেল্লি সেতুতে।প্রতিদিন সকাল ৬-টা থেকে রাত ১০-টা পর্যন্ত শুধুমাত্র হালকা যানবাহন চলার ক্ষেত্রে অনুমতি রয়েছে সেতুর উপর দিয়ে।
টানা বৃষ্টির দাপটে পাহাড়ে দুর্ভোগ আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রশাসনের। যদিও সমস্ত দিক থেকেই ব্যবস্থা গ্রহণ করছে প্রশাসন। তৎপর রয়েছে কুইক রেসপন্স টিম। দুর্যোগে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গের জনজীবন।