অভিযোগ ছিল গুরুতর। প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা পালন করতে চূড়ান্ত ব্যর্থ। তাই মাত্র দু'মাসেই মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাবে শেষ হয়ে গেল হুমায়ুন কবীর অধ্যায়। প্রতিশ্রুতি, বিতর্ক এবং চেক বাউন্সের অভিযোগের আবহে বুধবার সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল নওদার বিধায়ককে। তাঁর জায়গায় নতুন সভাপতি হয়েছেন গজল জাফর। ক্লাবের ইতিহাসে তিনিই সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি। অন্যদিকে গত ৬ জুন দায়িত্ব নেওয়া হুমায়ুন গড়লেন সবচেয়ে কম সময়ের জন্য মহমেডানের সভাপতি থাকার নজির।
অভিযোগ, সভাপতি হওয়ার সময় হুমায়ুন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ৩ মাসের মধ্যে ক্লাবকে ২৫ কোটি টাকা দেবেন এবং সমস্ত বকেয়া মিটিয়ে আর্থিক সঙ্কট দূর করবেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন তো দূরের কথা, শুরুতেই তাঁর দেওয়া তিনটি চেক বাউন্স করে। ১৭ জুলাই, ২০ জুলাই এবং ৩০ জুলাই তিনি ৫০ লক্ষ টাকা করে মোট দেড় কোটি টাকার তিনটি চেক ইস্যু করেছিলেন। ক্লাবের অভিযোগ, ব্যাঙ্কে জমা দেওয়ার পর তিনটি চেকই পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে ফেরত এসেছে।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন হুমায়ুন। তাঁর দাবি ছিল, ক্লাবের স্বার্থেই চেক দেওয়া হয়েছিল এবং কয়েক দিনের মধ্যেই সেগুলি ক্লিয়ার হয়ে যেত। ট্রান্সফার ব্যানের সমস্যা মেটাতে ক্লাব সচিব ফিফার কাছে অতিরিক্ত সময়ও চেয়েছেন বলে তিনি জানিয়েছিলেন। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ ছিল, তাঁর অনুমতি না নিয়েই নির্ধারিত সময়ের আগে চেক জমা দেওয়া হয়েছিল। তবে সহ-সভাপতি ওয়াসিম আক্রম পাল্টা দাবি করেন, হুমায়ুন যে দিন চেক জমা দিতে বলেছিলেন, সে দিনই ব্যাঙ্কে জমা দেওয়া হয়েছিল। আর তখনই ব্যাঙ্ক জানিয়ে দেয়, অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ নেই।
এই টানাপড়েনের মধ্যেই শেষ পর্যন্ত আর সময় পেলেন না হুমায়ুন কবীর। তথাকথিত 'হনিমুন পিরিয়ড' কাটার আগেই প্রতিশ্রুতিভঙ্গের দায়ে তাঁকে সরিয়ে নতুন নেতৃত্বের পথে হাঁটল মহমেডান স্পোর্টিং। যা এক কথায়, নজিরবিহীন ঘটনা। ক্লাব কর্তাদের আশা, গজল জাফরের নেতৃত্বে আর্থিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে রেড রোডের শতাব্দীপ্রাচীন সাদা-কালো শিবির।