সকালে পেট ভরে ব্রেকফাস্ট করার পরও এক ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ফের খিদে পেয়ে যাচ্ছে? বিষয়টি অস্বাভাবিক নয়। শুধু খাবারের পরিমাণ কম হওয়ার কারণেই যে এমনটা হচ্ছে, তা নয়। বরং ব্রেকফাস্টে প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও ফাইবারের ঘাটতি, রক্তে শর্করার দ্রুত ওঠানামা, ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ কিংবা শরীরে জলের ঘাটতিও এর কারণ হতে পারে।
শরীরে খিদে ও পেট ভরা থাকার অনুভূতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় বিভিন্ন হরমোন। ঘ্রেলিনকে বলা হয় ‘হাঙ্গার হরমোন’। পেট খালি থাকলে এই হরমোনের মাত্রা বাড়ে এবং মস্তিষ্ককে খাবারের প্রয়োজনীয়তার সংকেত দেয়। অন্যদিকে ফ্যাট কোষ থেকে তৈরি লেপটিন শরীরকে পর্যাপ্ত খাবার পাওয়ার সংকেত দিয়ে পেট ভরা থাকার অনুভূতি তৈরি করতে সাহায্য করে।
ব্রেকফাস্টে পর্যাপ্ত প্রোটিন না থাকলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে না। প্রোটিন হজমের প্রক্রিয়াকে ধীর করে এবং ঘ্রেলিনের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। ফলে ডিম, দুধ, দই, পনির, ডাল বা অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ব্রেকফাস্টে রাখা জরুরি।
সাদা পাউরুটি, মিষ্টি সিরিয়াল, পেস্ট্রি কিংবা অতিরিক্ত চিনি দেওয়া চা-কফির মতো খাবারে রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বেশি থাকে। এগুলি দ্রুত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। পরবর্তীতে ইনসুলিনের প্রভাবে রক্তে শর্করা দ্রুত কমে গেলে ফের তীব্র খিদে পেতে পারে।
খুব তাড়াতাড়ি খাবার খেয়ে ফেললেও পেট ভরা অনুভূতি তৈরি হতে সময় লাগে। তাই ব্যস্ততার মধ্যেও ধীরে ধীরে খাবার চিবিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে খিদে নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে। ফলে সকালে বেশি খিদে বা কার্বোহাইড্রেট-সমৃদ্ধ খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা তৈরি হতে পারে। একইভাবে অতিরিক্ত মানসিক চাপে শরীরে কর্টিসলের মাত্রা বাড়লে ক্ষুধা ও খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়তে পারে।