নিজস্ব প্রতিবেদন: একসময় বাংলা গানের জগতে জনপ্রিয় নাম, পরে রাজনীতির ময়দানে দাপটের সঙ্গে পথচলা। কিন্তু এখন সম্পূর্ণ অন্য কারণে শিরোনামে প্রাক্তন মন্ত্রী তথা গায়ক ইন্দ্রনীল সেন। দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁকে ঘিরে তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। আর এবার পুলিশের জেরায় নিজের আয়ের উৎস হিসেবে গানের অনুষ্ঠানকেই সামনে আনলেন ইন্দ্রনীল।
পুলিশ সূত্রে খবর, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ইন্দ্রনীল জানিয়েছেন, তাঁর পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যে টাকা জমা পড়েছিল, তার পুরোটাই নাকি গানের অনুষ্ঠান এবং স্টেজ শো করে উপার্জন করা। অর্থাৎ, রাজনীতির বাইরেও তাঁর দীর্ঘদিনের গানের কেরিয়ার থেকেই এই অর্থ এসেছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে তদন্তকারীদের কাছে এই ব্যাখ্যা কতটা গ্রহণযোগ্য, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের নজরে এসেছে আরও একটি বিষয়। সূত্রের দাবি, ওই পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বর্তমানে জমা থাকা টাকার পরিমাণ প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই কম। ফলে প্রশ্ন উঠছে, অ্যাকাউন্টে জমা পড়া টাকা কোথায় গেল? সেই অর্থ অন্য কোনও অ্যাকাউন্টে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যেই ব্যাঙ্কের লেনদেনের নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তের সূত্র ধরে উঠে এসেছে দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির বিষয়টিও। অভিযোগ, ২০২২ সাল থেকে ইন্দ্রনীলের স্ত্রীর সংস্থা ‘মাস আর্ট’ দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ছিল। সেই সময় থেকেই পাস বিক্রির টাকা ইন্দ্রনীলের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ত বলে তদন্তকারীদের দাবি। অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্টেও তার প্রমাণ মিলেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
অন্যদিকে, এই ঘটনায় এবার মুখ খুলেছেন ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দা সেন। তাঁকেও লালবাজারে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পুলিশের কাছে দেওয়া বয়ানে তিনি জানিয়েছেন, ইন্দ্রনীল নিজের মতো কাজ করতেন এবং কারও কথা শুনতেন না বলে সূত্রের দাবি। স্বামীর গ্রেফতারির পর তাঁর এই বক্তব্য নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সব মিলিয়ে, পুজোর পাস বিক্রির টাকা, পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং অর্থের লেনদেন, এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই তদন্ত এগোচ্ছে। ইন্দ্রনীলের গানের অনুষ্ঠান থেকে আয়ের দাবি কতটা সত্য, আর পাস বিক্রির টাকার সঙ্গে সেই অ্যাকাউন্টগুলির সম্পর্ক কী, এখন সেটাই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।




