নিজস্ব প্রতিবেদন: রাজনৈতিক তরজা পুরনো, কিন্তু সেই বিতর্কিত ছবি যেন নতুন করে ফিরল আলোচনায়। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর চোখ বন্ধ করে বসে থাকার একটি ছবি এবার পোস্টার হয়ে ছড়িয়ে পড়ল সল্টলেকের বিভিন্ন এলাকায়। করুণাময়ী বাস টার্মিনাস থেকে করুণাময়ী মোড়, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দেখা গেল এই পোস্টার। আর তা ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা।
ঘটনার সূত্রপাত অবশ্য বেশ কয়েক বছর আগে। সংসদে দলিতদের উপর অত্যাচার নিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন তৎকালীন লোকসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে। সেই সময় লোকসভার ক্যামেরায় ধরা পড়ে রাহুল গান্ধীর একটি ছবি। নিজের আসনে বসে ডান হাত কপালে রেখে চোখ বন্ধ করে থাকতে দেখা যায় তাঁকে। সেই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় বিতর্ক। বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সময় সংসদে ঘুমোচ্ছিলেন রাহুল।
এবার সেই পুরনো ছবিকেই হাতিয়ার করে নতুন করে কটাক্ষের পথে হাঁটল কেউ বা কারা।
তবে পোস্টারগুলি কে বা কারা লাগিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত এলাকায় এমন কোনও পোস্টার চোখে পড়েনি। রাতের অন্ধকারে সবার অলক্ষ্যে সল্টলেকের একাধিক জায়গায় পোস্টারগুলি লাগানো হয়েছে। করুণাময়ী বাস টার্মিনাস ও মোড়ের মতো ব্যস্ত এলাকায় পোস্টারগুলি ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে এর পিছনে কোনও রাজনৈতিক দলের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও জানা যায়নি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৬ সালের ২০ জুলাই লোকসভায় এই ঘটনা ঘটেছিল। গুজরাতের উনায় চার দলিত যুবককে মারধরের ঘটনা নিয়ে সংসদে উত্তপ্ত আলোচনা চলছিল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্যের সময় রাহুলের ওই ছবি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। কংগ্রেসের তৎকালীন লোকসভার দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে এবং অন্য সাংসদরা যখন বিষয়টি নিয়ে সরব, তখন রাহুলকে চোখ বন্ধ করে বসে থাকতে দেখা যায়। বিজেপি ও বহুজন সমাজ পার্টি এই ছবি নিয়ে কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছিল।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের তরফে সেই সময় ঘুমিয়ে পড়ার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছিল। দলের নেত্রী রেণুকা চৌধুরীর দাবি ছিল, রাহুল ঘুমোচ্ছিলেন না, বরং চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিংভিও জানিয়েছিলেন, রাহুল মোবাইল ফোন দেখছিলেন।
প্রায় এক দশক পুরনো সেই বিতর্কিত মুহূর্তের ছবি আবার সল্টলেকের রাস্তায় ফিরে আসায় নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তবে এই পোস্টারের মাধ্যমে ঠিক কী বার্তা দিতে চাওয়া হয়েছে, কিংবা এর নেপথ্যে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে কি না, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন।
পোস্টারের পিছনে কি নিছক কটাক্ষ, নাকি ভোটের আগে নতুন রাজনৈতিক প্রচারের কৌশল?




