JAZZBAAT 24 BANGLA
২৬ সেপ্টে ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
Breaking
‘প্রাইভেট পার্টে স্পর্শ', বিগ বস বাংলার ঘরে জিতু-রাজবীরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ দাবদাহে হাঁসফাঁস কিংকোবরা, ফণা তোলা বিষধরের মাথায় জল ঢেলে শান্ত করলেন যুবক Asian Games 2026 : হরমনপ্রীত-অভিষেকের লক্ষ্যভেদ, জাপানকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ভারত দুই বিজেপি নেতার ‘বাকযুদ্ধ’, রনং দেহি চেহারা নিলেন ডিউটি অফিসার গ্রাহকদের সুবিধায় বড় ঘোষণা স্টেট ব্যাঙ্কের, ধর্মঘটের দিনগুলিতে লাগবে না চার্জ মেয়েদের স্কুলে পাঠানোই ছিল ‘অপরাধ’! বিদ্যাসাগর কীভাবে বদলে দিলেন বাংলার সেই সমাজ? মমতার সভায় যেতে বাধা! কুণাল ঘোষের গাড়িতে ছোড়া হল পাথর-ইঁট ‘নির্বাচন কমিশনারের ছেলে’ পরিচয়ে যুবকের বিস্ফোরক অভিযোগ, নাম জড়াতেই থানায় মন্ত্রী উমেশ রা... ‘প্রাইভেট পার্টে স্পর্শ', বিগ বস বাংলার ঘরে জিতু-রাজবীরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ দাবদাহে হাঁসফাঁস কিংকোবরা, ফণা তোলা বিষধরের মাথায় জল ঢেলে শান্ত করলেন যুবক Asian Games 2026 : হরমনপ্রীত-অভিষেকের লক্ষ্যভেদ, জাপানকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ভারত দুই বিজেপি নেতার ‘বাকযুদ্ধ’, রনং দেহি চেহারা নিলেন ডিউটি অফিসার গ্রাহকদের সুবিধায় বড় ঘোষণা স্টেট ব্যাঙ্কের, ধর্মঘটের দিনগুলিতে লাগবে না চার্জ মেয়েদের স্কুলে পাঠানোই ছিল ‘অপরাধ’! বিদ্যাসাগর কীভাবে বদলে দিলেন বাংলার সেই সমাজ? মমতার সভায় যেতে বাধা! কুণাল ঘোষের গাড়িতে ছোড়া হল পাথর-ইঁট ‘নির্বাচন কমিশনারের ছেলে’ পরিচয়ে যুবকের বিস্ফোরক অভিযোগ, নাম জড়াতেই থানায় মন্ত্রী উমেশ রা...

মেয়েদের স্কুলে পাঠানোই ছিল ‘অপরাধ’! বিদ্যাসাগর কীভাবে বদলে দিলেন বাংলার সেই সমাজ?

মেয়েদের স্কুলে পাঠানোই ছিল ‘অপরাধ’! বিদ্যাসাগর কীভাবে বদলে দিলেন বাংলার সেই সমাজ?
ছবি: গ্রাফিক্স ও এআই দ্বারা নির্মিত

বিশেষ প্রতিবেদন: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে আমরা সাধারণত বিধবা বিবাহ আন্দোলন, বর্ণপরিচয় কিংবা সমাজসংস্কারের সঙ্গে মনে করি। কিন্তু তাঁর কর্মজীবনের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল নারীশিক্ষার প্রসার। উনিশ শতকের বাংলায় যখন মেয়েদের শিক্ষাকে অনেক পরিবারই অপ্রয়োজনীয়, এমনকি সমাজবিরোধী বলেও মনে করত, তখন বিদ্যাসাগর বিশ্বাস করতেন একটি সমাজকে সত্যিকার অর্থে এগিয়ে নিতে হলে তার নারীদের শিক্ষিত করতেই হবে। তাঁর কাছে নারীশিক্ষা ছিল কেবল বই পড়তে শেখার বিষয় নয়; এটি ছিল আত্মমর্যাদা, সচেতনতা ও স্বাধীন চিন্তার পথ।

নারীশিক্ষার পথে এক কঠিন সময়

উনিশ শতকের বাংলার সামাজিক বাস্তবতা আজকের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। অধিকাংশ মেয়ের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত। বাল্যবিবাহ, সামাজিক কুসংস্কার এবং রক্ষণশীল মানসিকতার কারণে বহু পরিবার মেয়েদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে চাইত না। অনেকের ধারণা ছিল, মেয়েরা পড়াশোনা করলে সংসারের প্রচলিত কাঠামো নষ্ট হবে।

এই পরিস্থিতিতেই বিদ্যাসাগর সামনে এগিয়ে আসেন। তিনি বুঝেছিলেন, কেবল সমাজকে বক্তৃতা দিয়ে বোঝালেই পরিবর্তন আসবে না। প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ বিদ্যালয় তৈরি করা, শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা এবং অভিভাবকদের সেই শিক্ষার প্রতি আস্থা তৈরি করা।

বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় উদ্যোগ

নারীশিক্ষার প্রসারে বিদ্যাসাগরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল মেয়েদের জন্য বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ। তিনি বিভিন্ন অঞ্চলে বালিকা বিদ্যালয় গড়ে তোলার কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শিক্ষার্থী সংগ্রহ, অর্থের ব্যবস্থা এবং বিদ্যালয় পরিচালনার মতো বাস্তব সমস্যার সমাধানেও তিনি ভূমিকা রাখেন।

শিক্ষার সুযোগ তৈরি করাই তাঁর কাছে যথেষ্ট ছিল না; সেই সুযোগ যেন সমাজের সাধারণ পরিবারের মেয়েরাও পায়, সেটিও তিনি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছিলেন। তাঁর এই উদ্যোগের পেছনে ছিল একটি গভীর উপলব্ধি একজন শিক্ষিত নারী শুধু নিজের জীবনকেই বদলান না, তিনি একটি পরিবার এবং পরবর্তী প্রজন্মের চিন্তাভাবনাকেও প্রভাবিত করতে পারেন।

শিক্ষিত মা, সচেতন প্রজন্ম

বিদ্যাসাগরের নারীশিক্ষা ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল পরিবার ও সমাজের ভবিষ্যৎ। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, শিশুর প্রথম শিক্ষালয় তার পরিবার এবং মায়েরাই শিশুর জীবনের প্রথম শিক্ষক। ফলে নারীরা যদি শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন, তাহলে তার প্রভাব পড়বে গোটা সমাজের ওপর। তাই নারীকে শিক্ষিত করা মানে শুধু একজন ব্যক্তিকে শিক্ষিত করা নয়,বরং একটি প্রজন্মের ভিত শক্ত করা।

শুধু উদ্যোগ নয়, ছিল সাহসও

বিদ্যাসাগরের সময় নারীশিক্ষার পক্ষে দাঁড়ানো সহজ ছিল না। বিরোধিতা, সমালোচনা এবং সামাজিক চাপ,সবকিছুর মধ্যেই তাঁকে কাজ করতে হয়েছে। কিন্তু তাঁর সংস্কারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল, তিনি বিতর্কে থেমে থাকেননি। নিজের বিশ্বাসকে বাস্তব কাজে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

এই কারণেই নারীশিক্ষার ইতিহাসে তাঁর ভূমিকা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বুঝেছিলেন, সমাজ পরিবর্তনের জন্য শুধু আইন বা আদর্শ যথেষ্ট নয়; দরকার শিক্ষার আলো এবং সেই আলো পৌঁছে দেওয়ার প্রতিষ্ঠান। আজকের দিনে মেয়েদের বিদ্যালয়, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা আমাদের কাছে স্বাভাবিক দৃশ্য। কিন্তু এই স্বাভাবিকতার পেছনে রয়েছে বহু মানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম। সেই সংগ্রামের ইতিহাসে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নাম গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়।

নারীশিক্ষার প্রসারে তাঁর কাজ তাই কেবল অতীতের একটি অধ্যায় নয়। আজও তাঁর চিন্তা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, যে সমাজ তার অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার অধিকার থেকে দূরে রাখে, সেই সমাজ কখনও পূর্ণ বিকাশে পৌঁছতে পারে না।

বিদ্যাসাগর তাই শুধু ‘বিদ্যার সাগর’ ছিলেন না, শিক্ষার আলোকে সমাজের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন দেখা এক সাহসী সমাজসংস্কারকও ছিলেন। তাঁর সেই স্বপ্নের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়গুলির একটি, বাংলার মেয়েদের শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।

বিজ্ঞাপনrrr
37 Views 0 Likes 0 Comments

Related News

সমাজের অনগ্রসর সম্প্রদায়ের ‘হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার’ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
জানা-অজানা

সমাজের অনগ্রসর সম্প্রদায়ের ‘হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার’ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

নিউজ ডেস্ক: বাংলার আধুনিক নবজাগরণের যে অন্যতম অগ্রদূত ও সংস্কারক এই সমাজের অচলায়তন ভেঙে এক আপসহীন জীবনের উদাহরণ রেখে গেছেন তাঁর নাম ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। আজ তাঁর ২০৬তম জন্মদিন। যে-জীবন দু’শো বছর পেরিয়ে আজও অনন্য এবং য...

২৬ সেপ্টে ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম · 3 মিনিট
শেয়ার বাজারে বড় ধসের আগে কি বাজছে ঘণ্টা? তেল, বন্ড, AI—একসঙ্গে ঘনাচ্ছে মন্দার মেঘ
জানা-অজানা

শেয়ার বাজারে বড় ধসের আগে কি বাজছে ঘণ্টা? তেল, বন্ড, AI—একসঙ্গে ঘনাচ্ছে মন্দার মেঘ

বিশ্ব বাজারে বড় ধাক্কা এলে ভারতও পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন থাকবে না। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমাতে শুরু করলে ভারতীয় শেয়ার বাজারে বিক্রির চাপ বাড়তে পারে। তেলের দাম বেশি থাকলে ভারতের আমদানি খরচ এবং বাণিজ্য ঘাটতির উপর চাপ পড়ার সম্ভাবনাও থাকে।

২৫ সেপ্টে ২০২৬, ১০:০৭ পিএম · 4 মিনিট
বাথরুমে অ্যাশট্রে? আসল কারণ জানলে চমকে যাবেন
জানা-অজানা

বাথরুমে অ্যাশট্রে? আসল কারণ জানলে চমকে যাবেন

নিউজ ডেস্ক: বিমানে উঠলেই যাত্রীদের একাধিকবার জানানো হয়, বিমানে ধূমপান নিষিদ্ধ। কিন্তু কখনও বিমানের বাথরুমে ঢুকে লক্ষ্য করেছেন কি, দরজার কাছে ছোট্ট একটি অ্যাশট্রে রয়েছে? প্রথম দেখায় বিষয়টি বেশ অদ্ভুত মনে হতে পারে। যেখানে ...

২৪ সেপ্টে ২০২৬, ১০:৫৪ এএম · 2 মিনিট
ফুটন্ত জলেও সচল কোষ, নয়া অ্যামিবার সন্ধান, ভিনগ্রহে প্রাণের দিশা বিজ্ঞানীদের
জানা-অজানা

ফুটন্ত জলেও সচল কোষ, নয়া অ্যামিবার সন্ধান, ভিনগ্রহে প্রাণের দিশা বিজ্ঞানীদের

নিউজ ডেস্ক: উত্তপ্ত জল যেখানে অধিকাংশ প্রাণীর পক্ষেই মরণফাঁদ, সেখানেই অনায়াসে ঘুরে বেড়াচ্ছে আণুবীক্ষণিক এক জীব। সম্প্রতি জীববিজ্ঞানীদের নজরে এসেছে এককোষী এক বিশেষ অ্যামিবা, চরম তাপ সহ্য করার ক্ষমতার দিক থেকে যা জীববিজ্ঞা...

২৩ সেপ্টে ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম · 2 মিনিট

Top Comments (0)

No approved comments yet.