কলকাতা, বিশ্বদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: ছাত্রদের অদম্য লড়াইয়ে মাথা নোয়াতে বাধ্য হয়েছে হেমন্ত সোরেন সরকার।জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষা-সহ ২০১৪ সাল থেকে আউটসোর্সিং সংস্থা টিডিপিএল-এর মাধ্যমে নেওয়া সমস্ত নিয়োগ পরীক্ষা অবশেষে বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ঝাড়খণ্ডে। তবে এ বার ছাত্রনেতা রবীন্দ্র পাসোয়ান জানালেন, আন্দোলন এখনই শেষ হয়ে যায়নি। দু'মাসের সময় দেওয়া হয়েছে সরকারকে। এর মধ্যে সকল সমস্যার সম্পূর্ণ সুরাহা না হলে ফের আন্দোলনের বসার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার রাজ্য সচিবালয়ে দীর্ঘ মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর জেএসএসসি-সিজিএল বাতিলের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের সিদ্ধান্তের পর রাঁচিতে অনশনরত ছাত্রনেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহতো প্রত্যাহার করেন অনশন। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী দীপিকা পাণ্ডে সিং এবং ইরফান আনসারি। তাদের সামনে সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিলেন মাহতো। বলেন, পড়ুয়াদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য ঝাড়খণ্ড সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। পরীক্ষায় অনিয়মের ঘটনায় যে তদন্ত চলছে, তাতে সহযোগিতা করবেন তাঁরা।
এর পরই বুধবার নতুন করে সুর চড়ালেন আরেক ছাত্রনেতা রবীন্দ্র পাসোয়ান। তাঁর কথায়, “চাকরির পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদরত শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন স্থগিত করেছে কেবল। আর সমস্যা সমাধানের জন্য ঝাড়খণ্ড সরকারকে দুই মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। যদি ঝাড়খণ্ড সরকার দুই মাসের মধ্যে নিয়োগ পরীক্ষার সমস্যাগুলোর সুরাহা করতে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে আমরা পুনরায় আন্দোলন শুরু করব।”
এ দিকে সরকারের এই সিদ্ধান্তে নতুন করে ক্ষোভ ছড়িয়েছে জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে। রাঁচির প্রজেক্ট ভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। তাঁদের দাবি, পরীক্ষা বাতিল করে সমস্ত পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে দেওয়া হয়েছে। অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত করে শুধু দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক, গোটা পরীক্ষা বাতিল করা নয়। এই দাবিতেই সরব তাঁরা। এক পরীক্ষার্থীর কথায়, ‘‘সরকারের সিদ্ধান্তে আমরা রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছি। মা-বাবাকে বলব, একটু ধৈর্য ধরুন। আমরা আবার জিতব।’’