নিউজ ডেস্ক: শারজায় কর্মরত এক ভারতীয়ের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কর্নাটকের উদুপি জেলার বাসিন্দা আলউইন প্রকাশ কুন্দেরের দেহ শারজায় একটি গাড়ির ভিতর থেকে উদ্ধার হয়েছে বলে তাঁর পরিবারের দাবি। আরও ভয়াবহ বিষয় হল, দেহটি একাধিক টুকরো করে দুটি ব্যাগে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ঘটনার পর থেকেই প্রকাশের স্ত্রী ও ছেলের কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে গোটা ঘটনায় আরও ঘনীভূত হয়েছে রহস্য।
প্রকাশ কুন্দের কর্নাটকের কুন্দাপুরের বাসিন্দা। প্রায় ১৪ বছর ধরে তিনি শারজা বিমানবন্দরে কর্মরত ছিলেন। গত বছর ডিসেম্বর মাসে তিনি বাড়িতে এসেছিলেন। পরে ফের শারজায় ফিরে যান। তাঁর স্ত্রী টিনা কুন্দেরও শারজায় একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। তাঁদের ছেলে সেখানে দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছিল বলে জানিয়েছেন প্রকাশের ভাই অনিল প্রশান্ত কুন্দের।
পরিবারের দাবি, গত জুলাই মাস থেকেই প্রকাশের সঙ্গে যোগাযোগে সমস্যা তৈরি হয়। গত ২০ জুলাই তাঁর ভাই অনিল ফোন করেছিলেন। কিন্তু প্রকাশ ফোন ধরেননি। পরিবর্তে তাঁর ফোন থেকে একটি মেসেজ আসে। সেখানে জানানো হয়, তিনি ভালো আছেন। তবে প্রকাশ সাধারণত এভাবে মেসেজ করতেন না বলে পরিবারের সন্দেহ হয়।
এর কয়েকদিন পরেও প্রকাশের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে অনিল শারজায় থাকা প্রকাশের এক পরিচিত মনোহরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁকে প্রকাশের খোঁজ নিতে বলা হয়। মনোহর সেই আবাসনে যান, যেখানে প্রকাশ তাঁর পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। সেখানে নিরাপত্তারক্ষী তাঁকে জানান, প্রকাশ নাকি ভারতে ফিরে গিয়েছেন।
এরপর সংস্থার HR বিভাগের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। প্রথমে সেখান থেকেও একই তথ্য দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের দাবি। কিন্তু অনিলের সন্দেহ কাটেনি। তিনি ফের সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রকাশের অবস্থান যাচাই করার অনুরোধ জানান। এরপর পাসপোর্ট সংক্রান্ত রেকর্ড পরীক্ষা করে জানা যায়, প্রকাশ ভারতে ফেরেননি।
এর পরেই নিখোঁজের বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। পরিবারের দাবি, তদন্তের সময় ওমানের দিকে যাওয়ার রাস্তার পাশে একটি গাড়ি থেকে প্রকাশের দেহ উদ্ধার করা হয়। দেহটি টুকরো করে দুটি ব্যাগে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তাঁর ভাই। পরে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পরিবারের হাতে আসে।
প্রকাশের ভাই অনিল ইতিমধ্যেই উদুপি জেলার পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন। তবে এই ঘটনায় শারজা পুলিশের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষও। প্রকাশকে কেন খুন করা হল, কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত এই প্রশ্নগুলির এখনও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।
ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে প্রকাশের স্ত্রী ও ছেলের নিখোঁজ থাকা। অনিলের দাবি, আবাসনের CCTV ফুটেজে দু’জন পুরুষ এবং এক মহিলাকে বেরিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে। তবে ওই মহিলা প্রকাশের স্ত্রী কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। স্ত্রী ভারতে ফিরেছেন এমন কোনও প্রমাণও পরিবারের হাতে নেই বলে জানিয়েছেন অনিল।
পরিবারের তরফে আরও অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে FIR না হওয়ায় স্ত্রী ও ছেলের যাতায়াত সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করতেও সমস্যা হচ্ছে। ফলে তদন্তকারীদের সামনে এখন একাধিক প্রশ্ন—প্রকাশের শেষ অবস্থান কোথায় ছিল, তাঁর সঙ্গে শেষবার কারা যোগাযোগ করেছিলেন, গাড়িটি কার এবং তাঁর স্ত্রী-ছেলের বর্তমান অবস্থান কোথায়?
প্রকাশের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। শারজা কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং পরিবারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এখন গোটা ঘটনার রহস্য উন্মোচনের অপেক্ষা।
