কলকাতা, রেশমি ব্যানার্জি: বন্দে মাতরম গানকে ঘিরে আবারও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। কেন্দ্রের নির্দেশ রয়েছে এই গানের সম্পূর্ণ ছয়টি স্তবক গাইতে হবে। এদিকে এই নির্দেশ কোনোভাবেই মানতে রাজি নয় কংগ্রেস। কংগ্রেসের স্পষ্ট বার্তা, স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় থেকে কংগ্রেসের অধিবেশনে যে ঐতিহাসিক দু’টি স্তবক গাওয়া হয়ে আসছে, ভবিষ্যতেও নিজেদের অনুষ্ঠানে সেই দু’টি স্তবকই গাওয়া হবে। অর্থাৎ, কেন্দ্রের নির্দেশের সঙ্গে কার্যত সংঘাতের পথেই হাঁটছে কংগ্রেস।
সম্প্রতি, গোয়ায় অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের একটি সম্মেলনে 'বান্দে মাতরম' গানের ঐতিহ্যবাহী দুটি স্তবকই গাওয়া হয়। আর এই ঘটনা থেকেই স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে কংগ্রেস কেন্দ্রের নির্দেশ কোনোভাবেই মানতে নারাজ। কংগ্রেসের এই অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তিনি স্পষ্টভাবে প্রশ্ন তুলেছেন, “গত ৯০ বছর ধরে ‘বন্দে মাতরম’ একভাবে গাওয়া হচ্ছে। আজ কোনও সরকার এসে তা বদলে দিতে পারে না। কাল অন্য সরকার এসে আবার নতুন নিয়ম তৈরি করবে, এটা হতে পারে না।”
এরই পাশাপাশি তিনি আরও দাবি করেন, কংগ্রেস বন্দে মাতরমের যে সংস্করণ গেয়ে থাকে সেটা যদি অপরাধ হয়ে থাকে তাহলে সেই একই অপরাধের জন্য কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু , অটলবিহারী বাজপেয়ীকেও। তার স্পষ্ট বক্তব্য, দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তিনিও বছরের পর বছর এই সংস্করণেই ‘বন্দে মাতরম’ গেয়েছেন। তাহলে আজ বদল কেন।
উল্লেখ্য, স্বাধীনতা দিবসে কংগ্রেসের সদর দফতরে বন্দে মাতরম গাইতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে। দিল্লি পুলিশের কাছে অভিযোগও দায়ের হয়েছিল এর প্রেক্ষিতে। ভাইরাল সেই ভিডিও ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। আর তারপরেই নতুন করে বন্দেমাতরম গানের দুটি স্তবক গাওয়ার কথা বলা হয়েছে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে। এর মধ্যে দিয়ে কংগ্রেস নিজেদের অবস্থান অনেকটাই স্পষ্ট করে দিয়েছে।
তবে কংগ্রেসের অন্দরেও পুরোপুরি একমত নন সকলে। কারণ ‘বন্দে মাতরম’ ইস্যুর সঙ্গে জাতীয়তাবাদ ও হিন্দুত্বের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। ফলে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই ইস্যুতে যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সতর্ক কংগ্রেস শিবির। এই ঘটনা আবারও কেন্দ্রের সঙ্গে কংগ্রেসের মতপার্থক্যের বিষয়টি জোরালো করছে। বর্তমানে বন্দে মাতরমের সুর শুধু দেশাত্মবোধের চিহ্ন হয়ে থাকছে না এর সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে রাজনৈতিক বিতর্ক। আগামীদিনে কেন্দ্রের সঙ্গে কংগ্রেসের এই মতপার্থক্য জন্য কোন দিকে জল গড়ায় সেটাই দেখার।