কলকাতা: কলকাতা বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত বহু পুরনো একটি মসজিদে নমাজ পড়ার অনুমতি নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে গুরুত্বপূর্ণ সওয়াল-জবাব হয়েছে। তবে আপাতত কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়নি বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চ। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৭ অক্টোবর।
দমদমের নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ের কাছেই রয়েছে ঐতিহাসিক গৌরীপুর জামা মসজিদ, যা স্থানীয়ভাবে বাঁকড়া মসজিদ নামেও পরিচিত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে মসজিদটির বয়স ১৩০ বছরেরও বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিমানবন্দর সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে মসজিদটি বিমানবন্দরের অপারেশনাল এলাকার মধ্যে চলে আসে। রানওয়ের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জুলাই মাস থেকে ওই মসজিদে নমাজ পড়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, মসজিদটির অবস্থান রানওয়ের অত্যন্ত কাছে এবং সেখানে মানুষের যাতায়াত বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও উড়ান পরিচালনার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে। কিছু প্রতিবেদনে রানওয়ে থেকে মসজিদটির দূরত্ব প্রায় ১৬৫ মিটার বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে মসজিদ কমিটি। মামলাকারীদের আইনজীবী কিশোর দত্তের বক্তব্য, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সেখানে ধর্মীয় প্রার্থনা হয়ে আসছে। এত বছর ধরে যদি কোনও নিরাপত্তা সমস্যা না হয়ে থাকে, তাহলে হঠাৎ করে কেন সেখানে নমাজ বন্ধ করা হচ্ছে—আদালতে সেই প্রশ্নই তোলা হয়। নিয়ন্ত্রিতভাবে হলেও যাতে মুসল্লিদের সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়, সেই আবেদনও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের আইনজীবীর তরফে নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়। আদালতে বলা হয়, ওই এলাকায় শুধু প্রার্থনাই নয়, মানুষের জমায়েত ও বৈঠকের মতো বিষয়ও হয়। এমনকি বিমানবন্দরের রানওয়ের দিকে মানুষ ঢুকে পড়ার আশঙ্কার কথাও আদালতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কেন্দ্রের তরফেও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়। বিমানবন্দর যেহেতু দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর অংশ, তাই সেখানে নিরাপত্তা বিধি কতটা কঠোরভাবে কার্যকর করা প্রয়োজন, সেটিই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
শুনানির সময় বিচারপতি কৃষ্ণা রাও বিমান নিরাপত্তা নিয়ে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ঘটনাগুলির প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বিশ্বজুড়ে বিমান নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে সাম্প্রতিক দুবাইগামী বিমানের ঘটনার প্রসঙ্গ আদালতে আনেন। অর্থাৎ, আদালতের পর্যবেক্ষণে বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিষয়টি যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তা স্পষ্ট।
এর আগে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছিল, বিষয়টি কোনও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়। সরকারের বক্তব্য ছিল, ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার পেতে হবে।
এখন নজর আগামী ৭ অক্টোবরের শুনানির দিকে। সেদিন আদালত মসজিদে নমাজ পড়ার অনুমতি, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট জমি ও প্রবেশাধিকারের আইনি অবস্থান, এই সব বিষয়ে কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ।
