ঢাকা, হাবিবুর রহমান: কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। নিহতদের মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজন এবং সাভারের একজন রয়েছেন।
শনিবার বিকেল ৫টার দিকে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন হয়ে মরদেহবাহী ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স বাংলাদেশের বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে পৌঁছায়। ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেনাপোল-পেট্রাপোল শূন্যরেখায় ভারতের ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স থেকে মরদেহগুলো বাংলাদেশি লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে তোলা হয়।
বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ওসি ফেরদৌস হোসেন খান জানান, প্রয়োজনীয় ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ সময় বেনাপোল আইসিপি ক্যাম্পের বিজিবি, ইমিগ্রেশন ও পোর্ট থানা পুলিশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নিহতরা হলেন কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৪০), তাঁর স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৫), তাঁদের তিন বছরের ছেলে স্বর্ণাশীষ দত্ত এবং দেবাশীষের শ্বশুর মো. আকরাম আলী (৬৪)। অন্যজন সাভারের আমিনবাজারের বেগুনবাড়ি এলাকার আহম্মেদ বাবু (৩৭), তিনি আদম আলীর ছেলে।
আহম্মেদ বাবুর মরদেহ নেওয়ার জন্য শুক্রবার বিকেল থেকেই তাঁর স্বজনেরা বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট এলাকায় অপেক্ষা করছিলেন।
কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের পরিবারের চারজনের মরদেহ গ্রহণ করতে তাঁর সহকর্মী সাংবাদিক ও স্বজনেরা বেনাপোলে উপস্থিত ছিলেন। দেবাশীষের শ্যালক ফিরোজ হাসান কলকাতা থেকে মরদেহগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশে ফিরেছেন। কলকাতায় থাকা দেবাশীষের আত্মীয় সঞ্চয় ঘোষ ও কাঞ্চন নন্দীও মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেন।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, দেবাশীষ দত্ত ও তাঁর ছেলে স্বর্ণাশীষ দত্তের মরদেহ হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সৎকার করা হবে। অন্যদিকে দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমীন ও শ্বশুর আকরাম আলীর মরদেহ ইসলামি রীতি অনুযায়ী দাফন করা হবে।
কলকাতার মাটিতে আকস্মিক এই অগ্নিকাণ্ডে প্রিয়জন হারিয়ে শোকস্তব্ধ পরিবারগুলো। দীর্ঘ আনুষ্ঠানিকতা শেষে অবশেষে স্বজনদের হাতে ফিরেছে তাঁদের প্রিয়জনদের মরদেহ। এখন শেষকৃত্য সম্পন্ন করে আপনজনদের শেষ বিদায় জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা।