রাজ্যে পালাবদল ঘটেছে। তৃণমূলের জায়গায় ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। এবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জনতার দরবার করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর সেই দরবারেই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ও প্রাক্তন বিধায়কের কাছে নালিশ বেশ কয়েকজন মহিলার। প্রাক্তন পুলিশকর্তা তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে জমি দখলের গুরুতর অভিযোগ, জনতার দরবারে গিয়ে অভিযোগ করেছেন মহিলারা।
হাওড়ার কোনা এক্সপ্রেসওয়ের কাছে প্রায় ২২ কাঠা জমি জোরপূর্বক দখল করে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন হাওড়ার পাঁচ মহিলা। বিচার চেয়ে তারা ‘জনতার দরবার’-এর মাধ্যমে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নালিশ জানিয়েছেন। যদিও তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন প্রাক্তন বিধায়ক। নিয়ম মেনে জমির মালিকানাস্বত্ত্ব রয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রাক্তন বিধায়ক।
অভিযোগকারী মহিলাদের মধ্যে অন্যতম জয়ন্তী ধারা জানান, ২০২২ সাল থেকে তাদের ওই জমি দখল করে রাখা হয়েছে। প্রতিবাদ জানালে মিলেছে হুমকি। শুধু তাই নয়, প্রাক্তন বিধায়কের মদতপুষ্ট গুন্ডাদের দিয়ে বেশ কয়েকবার আক্রমন হয়েছে তাদের উপর। তার দাবি, আদালতের ইনজাংশন থাকা সত্ত্বেও রাতের অন্ধকারে ওই জমিতে পাচিল তুলে দেওয়া হয়। বাধা দিতে গেলে বহিরাগতদের এনে তাদের মারধর করা হয়, এমনকি মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া এবং পাথর ছোড়ার মত ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ। আর এই অভিযোগ কার্যত অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক।
তিনি জানিয়েছেন, যখন তিনি রাষ্ট্রপুঞ্জে (ইউনাইটেড নেশনস) কর্মরত ছিলেন, তখন ২০০১, ২০০২ এবং ২০০৬ সালে পর্যায়ক্রমে ওই জমি কিনেছিলেন। জমির দলিল থেকে শুরু করে বাউন্ডারি ওয়াল সমস্ত বৈধ প্রমাণ তার কাছে রয়েছে। যারা আজ অভিযোগ করছেন তাদের করা অভিযোগ টেকেনি আদালতে। প্রাক্তন বিধায়কের দাবি, এই মহিলারা এর আগেও জমি দখলের চেষ্টা করেছিলেন। তারা হাইকোর্ট এবং সিভিল কোর্টে মামলা করেও হেরে গিয়েছেন। উল্টে তিনি নিজেই ওই মহিলাদের বিরুদ্ধে ইনজাংশন পেয়েছেন।
হুমায়ুন কবীরের মতে, যাদের কোনো বৈধ নথিপত্র নেই, তারাই জোর করে জমি দখলের চেষ্টা করছেন বা মিথ্যা অভিযোগ করছেন। এর পিছনে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেও তিনি মনে করছেন। পুরো বিষয়টি নিয়ে এলাকায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগের ফলে উঠছে একাধিক বিষয়। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ।