দীর্ঘ অপেক্ষার পর আইনি স্বস্তি পেলেন শিল্পপতি গৌতম আদানী ও তার পরিবার। আমেরিকার আদালতে গৌতম আদানি, তার ভাইপো সাগর আদানি এবং আদানি গ্রিন এনার্জির সিইও ভিনীত জৈনের বিরুদ্ধে তিনটি ফৌজদারির অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। এই ফৌজদারির মামলা খারিজ করে দিল আমেরিকার আদালত।১১ আগস্ট ২০২৬, নিউ ইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারপতি নিকোলাস জি. গারাউফিস মার্কিন বিচার বিভাগের আবেদন মঞ্জুর করেন। খারিজ হওয়া অভিযোগগুলি ছিলো সিকিউরিটিজ জালিয়াতির ষড়যন্ত্র, ওয়্যার ফ্রডের ষড়যন্ত্র এবং সিকিউরিটিজ ফ্রড। আদালত এই অভিযোগগুলিকে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে খারিজ করেছে।
মামলা খারিজ করা হলেও মার্কিন বিচার বিভাগের পদ্ধতি নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপ্রতি। তার মতে, তদন্তকারী FBI ও SEC আধিকারিকদের পাশাপাশি মামলার সঙ্গে যুক্ত সরকারি আইনজীবীদের মতামত না নিয়েই প্রতিরক্ষা পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই গোটা বিষয়টি খুবই অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন তিনি।
আদানি সংস্থার বিরুদ্ধে দুর্নীতি বিরোধী নীতি কর্পোরেট পরিচালনা এবং আইন মেনে চলার বিষয়ে অভিযোগ আনা হয়েছিল। আদালতের মতে, এগুলি খুবই সাধারণ। তাই এগুলিকে মিথ্যে মামলা হিসাবে চালানো কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
অপরদিকে মামলা প্রত্যাহারের পক্ষে মার্কিন বিচার বিভাগের বেশ কিছু যুক্তি আদালত মান্যতা দেয়নি। ভারতে এই বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সেই যুক্তিকে খারিজ করে বিচারপতি জানান, যে ভারতীয় নথিগুলির কথা DoJ উল্লেখ করেছে, সেগুলি আসলে এই মামলার নির্দিষ্ট অভিযোগের তদন্তের ফল নয়।
আমেরিকায় ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আগামীর ঘোষণার বিষয়টিও আদালতে আলোচনায় আসে। সেই বিষয়ে বিচারপতি গারাউফিস বলেন, এই বিনিয়োগ সম্পূর্ণই অন্য ক্ষেত্রে। এতে মামলার সিদ্ধান্তের উপর কোনো প্রভাব করতে পারে এমন কোনো প্রমাণ তিনি পাননি। তাই এই বিষয়টি কোনো যুক্তি নেই।
তবে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, গৌতম আদানি, সাগর আদানি এবং বিনীত জৈনের বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি অভিযোগ শেষ হলেও অন্য পাঁচ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা এখনো চলছে। রণজিৎ গুপ্ত, সিরিল কাবানেস, সৌরভ আগরওয়াল, দীপক মালহোত্রা এবং রূপেশ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে থাকা বিদেশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এ বিষয়ে গৌতম আদানি জানিয়েছেন, কঠিন সময়েও সত্য, ন্যায় এবং আইনের শাসনের প্রতি তাদের বিশ্বাস অটুট ছিল। আদালত ন্যায়বিচার করেই রায় দিয়েছেন।
আগামী ৩১ শে আগস্ট এর মধ্যে এই মামলা প্রত্যাহারের কারণ এবং প্রয়োজনীয় নথি মার্কিন বিচার বিভাগকে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এই মামলা খারিজ হওয়ার ফলে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন আদানী পরিবার।