নয়াদিল্লি: বাংলার রাজনীতিতে যাঁর রাজনৈতিক উত্থানের অন্যতম প্রধান অধ্যায় ছিল সিপিএম-বিরোধী আন্দোলন, সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এবার সরাসরি কথা হল সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির। জাতীয় রাজনীতিতে এই যোগাযোগকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আগামী সপ্তাহে দিল্লিতে বিরোধী জোটের বৈঠক আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে মমতার তৎপরতা নজর কেড়েছে।
এম এ বেবির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু বেবিই নন, বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও ফোনে কথা বলেছেন তৃণমূল নেত্রী। দিল্লিতে আগামী সপ্তাহে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক করার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছেন বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
মমতা-বেবির এই যোগাযোগের প্রেক্ষাপটে রয়েছে কমিশন সংক্রান্ত বিতর্ক। বেবি আগে দেশের একাধিক বিরোধী নেতার পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠির জবাবে মমতাও পাল্টা চিঠি দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এরপরই দু’জনের মধ্যে ফোনে কথোপকথন হয়।
রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে বিভিন্ন মহল। কারণ, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের উত্থানের সঙ্গে সিপিএমের দীর্ঘ শাসনের অবসানের ইতিহাস ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলনের পর ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। ফলে তৃণমূল ও সিপিএমের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত দীর্ঘদিনের।
তবে জাতীয় রাজনীতিতে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। বিজেপির বিরুদ্ধে বৃহত্তর বিরোধী ঐক্যের প্রশ্নে বিভিন্ন সময়ে একাধিক দলের সঙ্গে তৃণমূলের যোগাযোগ হয়েছে। ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকেও তৃণমূল ও বাম দলগুলির প্রতিনিধিরা একই মঞ্চে ছিলেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সিপিএমের সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে এভাবে সরাসরি যোগাযোগের ঘটনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এর আগে দিল্লিতে রাহুল গান্ধীর বাসভবনে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের দাবি, সেই আলোচনায় এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েও কথা হয়েছিল।
কমিশন সংক্রান্ত ইস্যুতে বিরোধী দলগুলির বৃহত্তর সমন্বয়ের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। ইন্ডিয়া জোটের বাইরে থাকা আপ, ডিএমকে এবং বিজেডির মতো দলগুলিকেও এই ইস্যুতে পাশে আনার ক্ষেত্রে মমতা ও বেবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
এরই মধ্যে কলকাতার মুকুন্দপুরে তৃণমূলের একটি মিছিলে হামলার অভিযোগের ঘটনাও রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছে। ওই ঘটনায় কয়েকজন কর্মী আহত হন এবং প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর গুরুতর আহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পরদিন সিপিএমের মুখপত্র ‘গণশক্তি’-তেও বিষয়টি প্রকাশিত হয়।
সব মিলিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও এম এ বেবির সাম্প্রতিক যোগাযোগ জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী দলগুলির সমন্বয়কে নতুন আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে। তবে এই যোগাযোগ ভবিষ্যতে কোনও আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক সমঝোতায় রূপ নেবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
