বাঁকুড়া: রাজ্যের প্রশাসনিক আধিকারিকদের একাংশকে প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে কড়া ভাষায় সতর্ক করলেন পশ্চিমবঙ্গের বন, পরিবেশ ও সমবায় দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী দিবাকর ঘরামী। তাঁর বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চর্চা। বৃহস্পতিবার বাঁকুড়ার সোনামুখীতে বিজেপির একটি সভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, এখনও কিছু সরকারি আধিকারিক বিজেপি ও রাজ্য সরকারের নির্দেশ মেনে কাজ করছেন না। এমনকী, তাঁদের একাংশ সিপিএমের সভায় যোগ দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করছেন বলেও দাবি করেন মন্ত্রী।
‘সরকারি পদে থেকে রাজনীতি নয়’, বার্তা মন্ত্রীর
অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে সোনামুখীতে মিছিল ও সভার আয়োজন করেছিল বিজেপি। সেই সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সরকারি আধিকারিকদের একাংশের ভূমিকা নিয়ে সরব হন দিবাকর ঘরামী। তাঁর অভিযোগ, কিছু আধিকারিক এখনও রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের পরিচয় দিচ্ছেন এবং সরকারের কথা শুনে কাজ করছেন না।
মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি এমন ঘটনাও সামনে এসেছে, যেখানে কোনও সরকারি আধিকারিক সিপিএমের সভায় গিয়ে সামাজিক মাধ্যমে লাইভ করছেন। আবার কেউ কেউ সিপিএমের সভায় লোক জমায়েত করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এই ধরনের কার্যকলাপের উপর সরকারের নজর রয়েছে বলে দাবি করেন দিবাকর ঘরামী।
তাঁর স্পষ্ট বার্তা, সরকারি পদে থেকে মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। আর যদি কেউ সক্রিয়ভাবে রাজনীতি করতে চান, তা হলে সরকারি পদ ছেড়ে রাজনীতির ময়দানে নামা উচিত। প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “হয় আপনারা সরকারি আধিকারিক হিসাবে মানুষের জন্য কাজ করুন অথবা সরকারি পদ ছেড়ে রাজনীতি করুন।”
‘হাওয়াই চটি আর আসবে না’, মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক
এ দিনের সভায় মন্ত্রীর সবচেয়ে বেশি আলোচিত মন্তব্য ছিল ‘হাওয়াই চটি’ প্রসঙ্গে। একাংশ প্রশাসনিক আধিকারিকের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাঁরা নাকি মনে করছেন, আবার হাওয়াই চটির সরকার ফিরে আসবে এবং তাঁরা আগের মতোই কাজ করবেন। সেই প্রসঙ্গেই তাঁর হুঁশিয়ারি, “আপনারা জিভে তেল দিয়ে থাকলেও হাওয়াই চটি আর আসবে না।”
এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি মূলত রাজ্যের পূর্বতন রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করেছেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। যদিও যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন মন্ত্রী, তাঁদের নির্দিষ্ট পরিচয় বা বক্তব্য এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
তৃণমূলকেও তীব্র আক্রমণ
শুধু প্রশাসনিক আধিকারিক নয়, সভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকেও নিশানা করেন দিবাকর ঘরামী। তাঁর দাবি, তৃণমূলের রাজনৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং ভবিষ্যতে দলটির অস্তিত্ব ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে। তৃণমূলের প্রতীক ও দলীয় কাঠামো নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, দলের শুধু জোড়াফুল নয়, মূলটিও পচে গিয়েছে।
অন্যদিকে, ওই সভায় বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁর নিশানায় ছিল সিপিএম। সিপিএমের নেতাদের একাংশের কার্যকলাপের সমালোচনা করেন তিনি।
সব মিলিয়ে, অন্নপূর্ণা যোজনাকে সামনে রেখে আয়োজিত বিজেপির এই সভা প্রশাসনিক আধিকারিকদের ভূমিকা এবং বিরোধী দলগুলিকে আক্রমণের মঞ্চ হয়ে ওঠে। দিবাকর ঘরামীর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক আরও বাড়ে কি না, এখন সেদিকেই নজর।