নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের আইনি জটিলতা আরও বাড়ল। নতুন একটি মামলায় তাঁকে আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে হলদিয়া মহকুমা আদালত। উল্লেখযোগ্যভাবে, নন্দীগ্রামে ভোটগ্রহণ হবে ৬ অক্টোবর। ফলে নতুন এই নির্দেশের জেরে ভোটের ঠিক আগের দিন পর্যন্ত জেলেই থাকতে হবে কংগ্রেস প্রার্থীকে।
এর আগে ১৯ সেপ্টেম্বর তিনটি মামলায় মিলন প্রধানকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়ের একাধিক পুরনো মামলা রয়েছে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলির মধ্যে খুন, খুনের চেষ্টা, অপহরণ, প্রমাণ লোপাট, বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ, অস্ত্র-সহ দাঙ্গা এবং ভয় দেখানোর মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে চারটি পুরনো জামিন-অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল।
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর এলাকা থেকে মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন তাঁকে হলদিয়া মহকুমা আদালতে হাজির করানো হলে আদালত ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেয়। সেই সময় থেকেই তাঁর নির্বাচনী প্রচার কার্যত বাধাগ্রস্ত হয়। নন্দীগ্রামে ভোটগ্রহণের আগে প্রচারের শেষ দিন ৪ অক্টোবর হওয়ায়, আগের নির্দেশ অনুযায়ীও তাঁর হাতে প্রচারের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত ছিল।
এর মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা সামনে আসে। সোমবার সেই মামলায় হলদিয়া আদালতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে হাজিরা দেন মিলন। আদালত তাঁকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয় বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, খেজুরি থানার একটি মামলার শুনানির জন্য কাঁথি মহকুমা আদালত তাঁকে ২৩ সেপ্টেম্বর সশরীরে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সময়ে দুই আদালতে হাজিরা সম্ভব না হওয়ায় ভার্চুয়াল শুনানির ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে মিলন প্রধানের আইনজীবী কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আরও পাঁচটি মামলায় গ্রেফতারির আশঙ্কা রয়েছে বলে আদালতে সুরক্ষা চাওয়া হয়েছে। সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে বিষয়টি ওঠে এবং মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর এই আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে মোট কতগুলি মামলা রয়েছে এবং কোন কোন মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ হতে পারে, তা নিয়েও আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য, এই বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্যই হাই কোর্টের কাছে আবেদন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই পাঁচটি মামলায় তিনি জেল হেফাজতে রয়েছেন বলে আদালতে জানানো হয়েছে।
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মিলন প্রধান জেলে থাকায় তাঁর অনুপস্থিতিতেই কংগ্রেসকে নির্বাচনী প্রচার চালাতে হচ্ছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, প্রার্থীর অনুপস্থিতিতে যাঁরা প্রচার করছেন তাঁদেরও বিভিন্নভাবে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মিলন প্রধানের গ্রেফতার ও পরবর্তী জেল হেফাজত নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চললেও, তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলির অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন। মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টে শুনানির পর তাঁর পরবর্তী আইনি অবস্থান কিছুটা স্পষ্ট হতে পারে। নন্দীগ্রামে ভোট ৬ অক্টোবর এবং গণনা ৯ অক্টোবর নির্ধারিত রয়েছে।