নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রাম বিধানসভার উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্রমশ বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই সামনে আসছে সংঘর্ষ ও অশান্তির ঘটনা। এরই মধ্যে সিপিআই প্রার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠল নন্দীগ্রামে। সোমবার কংগ্রেসের প্রচার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়।
অভিযোগ, সোমবার সন্ধ্যায় নন্দীগ্রামের দাউদপুর মুসলিম এলাকায় প্রচারে গিয়েছিলেন বামফ্রন্টের সিপিআই প্রার্থী শান্তিগোপাল গিরি। সেই সময় তাঁর উপর কয়েকজন চড়াও হন বলে অভিযোগ। তাঁকে মারধর করার পাশাপাশি জামাকাপড় ছিঁড়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। আচমকা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। নির্বাচনের আগে পরপর রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ সামনে আসায় নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। কে বা কারা জড়িত রয়েছেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামে রাজনৈতিক প্রচারের পরিবেশ এবং নিরাপত্তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
অন্যদিকে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয় নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০০৭ সালের পুরোনো এক মামলায় গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে হলদিয়া মহকুমা আদালত। পুলিশের দাবি, উনিশ বছর ধরে পলাতক ছিলেন ধৃত কংগ্রেস নেতা। উপনির্বাচনের আগে এই গ্রেফতারি ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। গ্রেফতারির পর আরও একটি মামলায় তাঁকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। বর্তমানে তিনি জেল হেফাজতে রয়েছেন। মিলন প্রধানকে কাঁথি আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক তাঁকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নন্দীগ্রাম থানার একটি মামলায় মিলনকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে হলদিয়া আদালত।
আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন। নন্দীগ্রাম বরাবরই রাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। দিন যত এগোচ্ছে ভোট নিয়ে উত্তেজনা ততই বাড়ছে। ভোট নিয়ে উত্তেজনা দিন দিন বাড়ছে। ইতিমধ্যে, নন্দীগ্রামে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেয় মমতা-তৃণমূল প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে। তারপরই সাংবাদিক বৈঠক করে কংগ্রেস প্রার্থীকে নন্দীগ্রামে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির হয়ে লড়বেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিহত আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ। উপনির্বাচনের আগে সেখানে রাজনৈতিক পরিস্থিতিও যথেষ্ট উত্তপ্ত। তার পরেই কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান গ্রেফতার হওয়ায় নতুন রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
