নয়াদিল্লি, স্নিগ্ধা চৌধুরী: নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষাব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে ফের সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হল। বুধবার কেন্দ্রীয় সরকার শীর্ষ আদালতকে জানাল, নিটের গোটা পরীক্ষাব্যবস্থাকে আরও সুরক্ষিত এবং নিশ্ছিদ্র করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে শুরু করে পরীক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছনো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে একাধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে আদালতে দাবি করেছে কেন্দ্র।
কেন্দ্রের হয়ে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি জানান, নিটের প্রশ্নপত্র বহনকারী গাড়িতে জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে গাড়ির গতিবিধি এবং অবস্থান সম্পর্কে নজর রাখা সম্ভব। প্রশ্নপত্র পরিবহণের ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়েছে বলে আদালতকে জানানো হয়।
কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, প্রশ্নব্যাঙ্ক তৈরির প্রক্রিয়াতেও একাধিক স্তরের গোপনীয়তা রাখা হচ্ছে। একাধিক মডারেটর প্রশ্ন তৈরির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোন প্রশ্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে জায়গা পাবে, সে সম্পর্কে তাঁদের সম্পূর্ণ তথ্য থাকবে না। এর ফলে প্রশ্নফাঁসের সম্ভাবনা কমানো যাবে বলে কেন্দ্রের বক্তব্য।
কেন্দ্রের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, নিটের পরীক্ষাব্যবস্থা নিয়ে রাধাকৃষ্ণণ কমিটিও বিস্তারিত পর্যালোচনা করেছিল। সেই কমিটি ব্যবস্থাপনার কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ত্রুটি চিহ্নিত করেছিল। আদালতের মতে, শুধু সাময়িক পদক্ষেপ নিলেই হবে না, পরীক্ষাব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি এবং স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।
এদিন আদালত ইউপিএসসির পরীক্ষাব্যবস্থার উদাহরণও তুলে ধরে। শীর্ষ আদালত বলে, ইউপিএসসি দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলক ভাবে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা পরিচালনা করছে। সেই ব্যবস্থাপনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ-কে আরও আধুনিক এবং দক্ষ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে, এমন বিশেষজ্ঞদের নিয়োগের উপরও জোর দিয়েছে আদালত। নিটের মতো দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশিকা পরীক্ষায় কোনও ধরনের গাফিলতি যাতে না থাকে, তা নিশ্চিত করাই এখন মূল লক্ষ্য বলে আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট হয়েছে।
এর আগে জুলাই মাসের শুনানিতেও সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্র এবং এনটিএ-কে পরীক্ষাব্যবস্থার একের পর এক ত্রুটি দূর করার নির্দেশ দিয়েছিল। প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি আদালত ঘনিষ্ঠ ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে বলেও জানানো হয়েছিল। বুধবারের শুনানির শেষে কেন্দ্রকে নতুন করে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। প্রায় তিন সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।