পুরী: জগন্নাথধাম পুরীর সমুদ্র সৈকতে ফের তৈরি হয়েছে বিপদের আশঙ্কা। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং উত্তাল সমুদ্রের পরিস্থিতির কারণে পুরী প্রশাসনের তরফে সৈকতে ‘লাল সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। আপাতত পর্যটক ও পুণ্যার্থীদের সমুদ্রে নামার ক্ষেত্রে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে সৈকতজুড়ে চলছে লাগাতার মাইকিং। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের পর সমুদ্র সৈকতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও জোরদার করা হয়েছে।
দেখুন: https://www.facebook.com/reel/1433890331987999
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সমুদ্রে ঢেউয়ের উচ্চতা এবং তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার কারণেই এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে সমুদ্রের বিপজ্জনক এলাকাগুলিতে ইতিমধ্যেই লাল পতাকা লাগানো হয়েছে। পর্যটক এবং পুণ্যার্থীদের সমুদ্রের জল থেকে দূরে থাকার জন্য বারবার সতর্ক করা হচ্ছে।
পুরীর সমুদ্র সৈকতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটক এবং পুণ্যার্থীর ভিড় হয়। বিশেষ করে জগন্নাথ মন্দির দর্শনের পাশাপাশি সমুদ্রসৈকতে সময় কাটানো পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। কিন্তু সমুদ্রের বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে প্রশাসন কোনওরকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
সৈকতের বিভিন্ন জায়গায় মাইকের মাধ্যমে ঘোষণা করা হচ্ছে, কেউ যেন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সমুদ্রে না নামেন। এমনকী জল থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি সমুদ্রের একেবারে ধারে না যাওয়ার জন্যও পর্যটকদের সতর্ক করা হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সতর্কতা বহাল থাকবে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরী সি-বিচ পুলিশ এবং নুলিয়াদের যৌথ দল সৈকতজুড়ে নজরদারি চালাচ্ছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। কেউ যাতে লাল পতাকা পেরিয়ে সমুদ্রের দিকে এগিয়ে যেতে না পারেন, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
প্রশাসনের এই তৎপরতার মূল লক্ষ্য হল সমুদ্রের উত্তাল পরিস্থিতিতে কোনও দুর্ঘটনা এড়ানো। কারণ আবহাওয়া খারাপ থাকলে সমুদ্রের ঢেউ আচমকা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। সেক্ষেত্রে জলে নামা পর্যটক বা পুণ্যার্থীদের জন্য বিপদ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
পুরী প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের সহযোগিতা করার আবেদন জানানো হয়েছে। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের নিয়ে যারা সৈকতে এসেছেন, তাঁদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে সমুদ্রে নামলে বিপদ বাড়তে পারে বলেও বারবার মাইকে সতর্ক করা হচ্ছে।
এদিকে সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের ভিড় থাকলেও বর্তমানে তাঁদের জল থেকে দূরে রেখেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে। প্রশাসনের নজর এখন আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং সমুদ্রের ঢেউয়ের পরিস্থিতির দিকে।
কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সমুদ্রের পরিস্থিতি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত লাল সতর্কতা এবং সমুদ্রে নামার নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। ফলে পুরীতে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকদের আপাতত সমুদ্রের জলে নামার পরিকল্পনা বাতিল করেই প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলতে হবে।
