সবং: তোলাবাজির প্রতিবাদ করায় এক বিজেপি কর্মীকে বাড়ি থেকে টেনে বের করে মারধরের অভিযোগ উঠেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ে। শনিবার রাতে বিষ্ণুপুর অঞ্চলের নাগালকাটায় এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গিয়েছে। আক্রান্ত বিজেপি কর্মীর নাম দিবাকর সামন্ত। পরিবারের অভিযোগ, লোহার রড, বাঁশ এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে একদল লোক তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়। হামলায় তাঁর হাত ও মেরুদণ্ডে গুরুতর চোট লেগেছে বলে জানা গিয়েছে।
পরিবার সূত্রে খবর, শনিবার রাতে স্নান করতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন দিবাকর। সেই সময় প্রায় ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল তাঁর বাড়িতে আসে বলে অভিযোগ। এরপর তাঁকে বাড়ি থেকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। হামলাকারীদের হাতে রড, বাঁশ এবং ধারালো অস্ত্র ছিল বলেও পরিবারের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ, প্রথমে রড ও বাঁশ দিয়ে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়েও হামলা চালানো হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় দিবাকরকে স্থানীয় সবং গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কলকাতায় স্থানান্তর করা হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে।
কেন হামলা?
পরিবারের দাবি, স্থানীয় বাজারে তোলা চাওয়ার প্রতিবাদ করেছিলেন দিবাকর সামন্ত। সেই কারণেই তাঁর উপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছে।
তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। ঘটনার পিছনে ঠিক কারা রয়েছে, কী কারণে হামলার ঘটনা ঘটল এবং অভিযোগের সঙ্গে তোলাবাজির বিষয়টির কোনও যোগ রয়েছে কি না—সবই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ঘটনার খবর পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে সবং থানার পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আক্রান্ত বিজেপি কর্মীর পরিবারের পক্ষ থেকে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
এখনও পর্যন্ত হামলার ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি। পুরো ঘটনার তদন্ত শেষ হলে হামলার প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের ভূমিকা আরও স্পষ্ট হবে।