বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা গোটা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, এমন মন্তব্য করে দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ‘সংগ্রাম’-এ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই বক্তব্য দেন।
২০২৪ সালের গণআন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই প্রথম এত বড় পরিসরে সংবাদমাধ্যমের সামনে বক্তব্য রাখলেন হাসিনা। তাঁর দাবি, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, এর সঙ্গে গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রশ্নও জড়িয়ে রয়েছে। তাই বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলির উচিত বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্রের দাবিকে সমর্থন করা।
হাসিনা একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, একটি রাজনৈতিক দল ও তার সমর্থকদের বাদ দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না। তিনি রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবিও তোলেন। পাশাপাশি বাংলাদেশে অবাধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলন এবং পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। হাসিনা দাবি করেন, সেই আন্দোলনকে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং বহু মানুষকে আবেগের মাধ্যমে প্রভাবিত করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনের সময় ব্যাপক প্রাণহানির অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশের একটি আদালত তাঁকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডও দেয়; তবে হাসিনা সেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকার রয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারেনি। এর পর থেকেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, দলীয় নিষেধাজ্ঞা এবং হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে হাসিনা জানিয়েছেন, তিনি বাংলাদেশে ফিরতে চান। বুধবারের বক্তব্যে তিনি ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানান। তবে তাঁর প্রত্যাবর্তন ঘিরে আইনি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও জটিল। ভারতও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাঁর প্রত্যর্পণের অনুরোধ নিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।
হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁর প্রত্যাবর্তনের বার্তা যেমন স্পষ্ট হয়েছে, তেমনই আন্তর্জাতিক মহলের কাছে গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্নটিকে নতুন করে তুলে ধরার চেষ্টা দেখা গেল।




