কলকাতা, পিউ নন্দী: দিদি নম্বর ১ মানেই টেলিভিশনের পর্দায় বিগত দুই দশক ধরে একটি নামই একচ্ছত্রভাবে রাজত্ব করেছে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই আচমকা জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘দিদি নম্বর ১’-এর সঞ্চালনার ব্যাটন বদল নিয়ে দর্শকদের মধ্যে জল্পনা ও চর্চা ছিল তুঙ্গে। তবে বহু দর্শকের সংশয় ও কটাক্ষকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে নিজের স্বতন্ত্র মেজাজে এখন মঞ্চ মাতাচ্ছেন টলিউডের অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়।
বরাবরই তিনি স্পষ্ট বক্তা হিসাবে পরিচিত। বিভিন্ন সময় ট্রলারদের জবাব দেন সপাটে এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ট্রোলের তোয়াক্কা না করে যখন তিনি পর্দায় নিজের জাদু দেখাচ্ছেন, তখনই তিনি সামনে নিয়ে আসেন আরও এক তথ্য। যা ট্রলারদের জন্য এক মোক্ষম জবাব বলে মনে করছেন ভক্তরা। স্বস্তিকা জানিয়েছেন, তার নতুন এই ইনিংসের সবচেয়ে বড় ভক্ত হয়ে উঠেছেন স্বয়ং তাঁর লন্ডনের হবু জামাই।
এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানান, তাঁর মেয়ে অন্বেষা ও তাঁর প্রেমিক ড্যানিয়েল লোগ্রান এখন এই শোয়ের নিয়মিত দর্শক। কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলো থেকেই ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার ড্যানিয়েলের সঙ্গে অন্বেষার পরিচয় এবং সেখান থেকেই প্রেম। অভিনেত্রীর কথায়, এর আগে ওটিটিতে তাঁর অজস্র কাজ এলেও মেয়ে কখনও সাবস্ক্রিপশন নেওয়ার ব্যাপারে মাথা ঘামায়নি। কিন্তু মায়ের এই শো শুরু হতেই সঙ্গে সঙ্গে সাবস্ক্রিপশন নিয়ে বসেছে অন্বেষা। ব্রিটিশ-আইরিশ ড্যানিয়েল যদিও বাংলা বোঝেন না, তবুও অন্বেষার সাহায্যে প্রতিটি সংলাপ অনুবাদ করে শুনে তিনি শোয়ের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছেন।
এখানেই শেষ নয়, 'হবু শাশুড়ি'র জন্য একেবারে খাঁটি ব্রিটিশ টানে শোয়ের থিম সং গেয়ে একটি মজাদার ভিডিও পাঠিয়েছেন ড্যানিয়েল বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তিনি বলেন,খুব শিগগিরই মেয়ের কাছে লন্ডন গিয়ে জামাইয়ের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বানানোর পরিকল্পনাও সেরে রেখেছেন অভিনেত্রী।
অন্যদিকে রচনার সঙ্গে তুলনা ও সোশ্যাল মিডিয়ার সমালোচনা প্রসঙ্গে নিজস্ব চাঁচাছোলা ভাষায় মুখ খুলেছেন স্বস্তিকা। তিনি সাফ জানিয়েছেন, রচনার সৃষ্টি বা কাজ নকল করার কোনো ইচ্ছাই তাঁর নেই, তিনি নিজের চেনা স্বকীয়তা দিয়েই দর্শকদের মন জয় করতে চান। সোশ্যাল মিডিয়াকে 'নর্দমা' আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, লোকের কটূক্তিতে তাঁর কিছু যায় আসে না। যদি একসময় ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’-এর ‘কদলীবালা’ অর্থাৎ শাঁকচুন্নির চরিত্র ফুটিয়ে তুলেই দর্শকদের বিপুল ভালোবাসা পাওয়া যায়, তবে কোনো কটাক্ষই তাঁর আত্মবিশ্বাস টলাতে পারবে না।