জনবহুল রাস্তায় পড়ে রয়েছে এক যুবকের নিথর দেহ। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কোচবিহারের পুণ্ডিবাড়ি থানার চকচকা এলাকায়। বুধবার স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তার ধারে ওই যুবকের দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। মুহূর্তেই শোরগোল পড়ে যায় চারিদিকে। তড়িঘড়ি তারা খবর দেন পুলিশে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুণ্ডিবাড়ি থানার পুলিশ। মৃতের নাম তাপস সরকার। বয়স আনুমানিক ৩৬ বছর। মৃতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে। ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলার রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুন্ডিবাড়ী থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাপস সরকার খাপাইডাঙ্গা গ্রামপঞ্চায়েতের তল্লিতলা অর্থাৎ বড়গিলা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি কোচবিহার জেলাশাসকের দফতরের গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বুধবার ভোরে রাস্তার ধারে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় তাপসকে। তাঁর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর আঘাতে চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে কোচবিহার এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে পথ দুর্ঘটনা মনে করা হয়েছিল। তবে তাপসের শরীরে আঘাতের ধরন এবং মাথায় গুরুতর চোটের চিহ্ন থাকায় দুর্ঘটনার তত্ত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁকে ভারী কোনো বস্তু বা পাথর দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ফলে, এটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে অন্য কোন রহস্য রয়েছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত। আপাতত অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলার রুজু করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তাপস সরকার পেশায় কোচবিহারের এক প্রশাসনিক কর্তার গাড়ি চালক ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ। ফলে, তার আকস্মিক মৃত্যুতে প্রশাসনিক মহলেও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে, তার মৃত্যুর সঙ্গে তার পেশাগত কোনও যোগ আছে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও তথ্য সামনে আসেনি।
তাপসের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও পরিচিতদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার ধারে কিভাবে তাপসের দেহ পড়ে রইল? তিনি কখন সেখানে পৌঁছেছিলেন? তার মাথায় আঘাত কিভাবে লাগলো?- এই সমস্ত বিষয় এখন তদন্তের আওতায়।
সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুন্ডিবাড়ী থানার পুলিশ। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, তাপসের গায়ে আঘাতের ধরণ, এবং তার শেষ সময়ের গতিবিধি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনও ঘটনা, তাপস সরকারের মৃত্যুর আসল কারণ জানতে এখন ময়নাতদন্তে রিপোর্ট ও পুলিশের তদন্তের দিকেই নজর।