ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিশ্বকাপ বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনাকে ঘিরে নয়া সংঘাতের সূচনা বিশ্বফুটবলে। ভবিষ্যতের বিশ্বকাপের লাভের অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির প্রস্তাব প্রসঙ্গে ফিফার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিল উয়েফা। শুধু তাই নয়। সম্ভাব্য মামলার প্রেক্ষিতে এই সংক্রান্ত কোনও নথি বা তথ্য নষ্ট না করার জন্যও ফিফাকে আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা।
'ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ' নামে একটি পৃথক সংস্থা গড়ে বিশ্বকাপ-সহ ফিফার বাণিজ্যিক আয়ের অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন ইনফান্তিনো। প্রায় ৪২০ কোটি ডলার রোজগারের উদ্দেশ্যে করা এই পরিকল্পনায় প্রত্যেক সদস্য দেশকে এককালীন ২ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। কিন্তু প্রস্তাব প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়ে ফিফা। শেষ পর্যন্ত শনিবার সেই পরিকল্পনা প্রত্যাহার করে নিতে কার্যত বাধ্য হন ইনফান্তিনো।
এর পরই নিউ ইয়র্কের আইন সংস্থা ডেচার্টের মাধ্যমে পাঠানো চিঠিতে উয়েফা জানিয়েছে, এই পরিকল্পনা ফুটবলের সুশাসনের পরিপন্থী বলেই তাদের বিশ্বাস। ফলে আইনি মামলা, সালিশি প্রক্রিয়া কিংবা নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে অভিযোগ, সব রাস্তাই খোলা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ফিফাকে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে, প্রাসঙ্গিক কোনও নথি বা তথ্য মুছে ফেলা, পরিবর্তন করা বা গোপন করার চেষ্টা হলে তা প্রমাণ নষ্ট করার সামিল বলে বিবেচিত হতে পারে।
উয়েফার পাশাপাশি এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন এবং কনকাকাফ-ও ইনফান্তিনোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। যদিও আফ্রিকার একাধিক সদস্য সংস্থার সমর্থন এখনও তাঁর পাশে রয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকার কনমেবল-ও ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ ৬৪ দলে সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় ইনফান্তিনোর সমর্থনের উপর নির্ভরশীল।
তবে এই বিতর্কে বড়সড়ো ধাক্কা খেয়েছে ইনফান্তিনোর ভাবমূর্তি। কয়েক সপ্তাহ আগেও আগামী মার্চে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল ছিল। এখন সেই পথ যে অনেকটাই কঠিন হয়ে উঠেছে বলে মনে করা হচ্ছে।