শঙ্করপুর মৎস্য বন্দর থেকে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়া ‘মা কালী’ ট্রলারের মৃত ও নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের পরিবারের পাশে দাঁড়াল রাজ্য সরকার। রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর বিডিও অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির হাতে আর্থিক সাহায্যের চেক তুলে দেন। পাশাপাশি, ঘোষণামতো মৃত মৎস্যজীবীদের পরিবারের একজন করে সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসনকে।
চলতি মাসের ২ তারিখ শঙ্করপুর মৎস্য বন্দর থেকে ‘মা কালী’ নামে একটি ট্রলার ইলিশ মাছ ধরার উদ্দেশ্যে গভীর সমুদ্রে রওনা দেয়। সেই সময় সমুদ্রে প্রতিকূল আবহাওয়া বিরাজ করছিল। সমুদ্রে যাওয়ার পাঁচ দিন পর থেকেই ট্রলারটির সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে মৎস্যজীবীদের পরিবার ও স্থানীয় মৎস্যজীবী মহলে। ট্রলারটির খোঁজে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের যৌথ তল্লাশি অভিযান শুরু হয়।
দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর বকখালি উপকূল থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে গভীর সমুদ্রে ডুবন্ত অবস্থায় ট্রলারটির সন্ধান মেলে। এরপর একে একে উদ্ধার করা হয় মৎস্যজীবীদের দেহ। এখনও পর্যন্ত মোট ১৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৩ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এখনও দুই মৎস্যজীবীর খোঁজে তল্লাশি অভিযান চলছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর বিধানসভায় মৃত ও নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং সরকারি চাকরির ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রবিবার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির হাতে ৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়। ওড়িশার তিন মৎস্যজীবীর পরিবারের সদস্যদেরও এই সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের ১৩ জন মৃত মৎস্যজীবীর পরিবারের একজন করে সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার এবং মৎস্য দফতর সবসময় মৎস্যজীবীদের পাশে রয়েছে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে থেকে ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।




