কলকাতা: পুজোর আগে ফের বদলাচ্ছে বাংলার আবহাওয়া। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই নিম্নচাপ আরও শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এর প্রভাবে আগামী কয়েক দিনে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২১ সেপ্টেম্বর কলকাতায় দিনভর মূলত মেঘলা আকাশের পরিস্থিতি থাকতে পারে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের শহরভিত্তিক পূর্বাভাসে ২১ সেপ্টেম্বর কলকাতায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩২ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ২৭ ডিগ্রির কাছাকাছি থাকতে পারে।
তবে মূল পরিবর্তন আসতে পারে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে। নিম্নচাপটি শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হলে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় তার প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে। ২২ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। ২৫ সেপ্টেম্বর দক্ষিণবঙ্গের কিছু অংশে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতাও রয়েছে।
উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে পরিস্থিতি আরও নজরে রাখা হচ্ছে। পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ কয়েকটি জেলায় ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে সমুদ্রও উত্তাল হওয়ার আশঙ্কা থাকায় মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এদিকে কলকাতার আকাশে উঁচু কিউমুলোনিম্বাস মেঘের উপস্থিতিও নজরে এসেছে। এই ধরনের মেঘ সাধারণত শক্তিশালী উল্লম্ব বায়ুপ্রবাহ এবং বজ্রঝড়ের সঙ্গে যুক্ত। তবে শুধুমাত্র এই মেঘের উপস্থিতি থেকেই বড় কোনও দুর্যোগের পূর্বাভাস দেওয়া যায় না। আবহাওয়ার সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং সরকারি সতর্কতাই এক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আরও বড় প্রশ্ন,নিম্নচাপটি কি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে? এই মুহূর্তে তা নিশ্চিত নয়। সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সিস্টেমটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে দক্ষিণ ওড়িশা ও উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে এগোতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার বিষয়ে এখনও নিশ্চিত পূর্বাভাস নেই।
ফলে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গবাসীর জন্য আগামী কয়েক দিন আবহাওয়ার আপডেটের দিকে নজর রাখা জরুরি। বিশেষ করে ২২ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ এবং দমকা হাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।