কলকাতা, পিউ নন্দী: করোনা সংক্রমণের সুযোগে শরীরে জেগে উঠছে সুপ্ত রোগজীবাণু ? গবেষণায় নতুন দিশা। মানবদেহে বাসা বাঁধা কিছু প্যাথোজেন নিরাময়ের পরেও সম্পূর্ণ নির্মূল হয় না, প্রতিরোধ ব্যবস্থার কড়া পাহারায় তারা কোষে ঘুমন্ত অবস্থায় থেকে যায়। তবে শারীরিক চরম বিপর্যয়ে সেই প্রতিরক্ষা বলয় শিথিল হলে তারা ফের সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘ভাইরাল রিঅ্যাক্টিভেশন’ নামে পরিচিত এই প্রক্রিয়ার প্রমাণ মিলেছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান পত্রিকা ‘নেচার’-এর এক সাম্প্রতিক সমীক্ষায়। দেখা গেছে, গুরুতর করোনা সংক্রমণের প্রভাবে রোগীদের দেহে দীর্ঘদিন ধরে লুকিয়ে থাকা নিষ্ক্রিয় ভাইরাসগুলি নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।আমেরিকার ২০টি চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি হওয়া ১,১৫৪ জন কোভিড আক্রান্তের ওপর এই সমীক্ষা চালানো হয়। আক্রান্তদের রক্ত, লালারস ও শ্বাসযন্ত্রের নমুনা এক বছর ধরে জিনগত পরীক্ষা করে দেখা গেছে, প্রায় ৪৮ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে কোভিডের চরম দশায় শরীরে আগে থেকেই থাকা অন্তত একটি সুপ্ত ভাইরাস জেগে উঠেছে।
চিকিৎসকদের মতে,এটি কিন্তু নতুন সংক্রমণ নয় বরং শরীরের ভেতর পুরোনো জীবাণুর নতুন করে জেগে ওঠে। তালিকায় মূলত হারপিস বর্গের এপস্টাইন-বার, সাইটোমেগালো, কোল্ড সোর সৃষ্টিকারী এইচএসভি-১ এবং অ্যানেলোভিরিডে গোত্রের ভাইরাস রয়েছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, এই ভাইরাসগুলির সঙ্গে করোনা রোগীর জটিলতা কিংবা সেরে ওঠার পরেও দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক ভোগান্তির যোগসূত্র মিললেও, এদেরই মূল কারণ বলে এখনই নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। রোগের তীব্রতাই এদের জাগিয়ে তুলছে নাকি এদের জাগরণের কারণে রোগ জটিল হচ্ছে তা নিশ্চিত করতে আরও গভীর গবেষণা প্রয়োজন। তবে মহামারীর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলায় দেহের এই সুপ্ত জীবাণুদের ভূমিকা বুঝতে গবেষণাটি চিকিৎসাজগতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সূত্র তুলে ধরেছে।