বীরভূম, নিউজ ডেস্ক: প্রবল পেটে ব্যথা হচ্ছিল। এর জন্য এক বালককে নিয়ে ডাক্তাদের চেম্বারে গিয়েছিল পরিবারের লোকজন। সেখানে ব্যথা কমানোর জন্য দেওয়া হয় পরপর দু’টি ইনজেকশন। এর কিছু সময়ের মধ্যেই নিথর হয়ে যায় ওই বালক। পরিবারের অভিযোগ, 'ভুল ইনজেকশনে মৃত্যু হয়েছে বালকের'। ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ালো এলাকায়। মৃতদেহ রাস্তায় রেখে দেখানো হয় বিক্ষোভ। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের রামপুরহাটে।
মৃত বালকের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, 'রামপুরহাট থানার বেলে নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা বুদ্ধদেব মাল। বয়স ১১ বছর। ছেলের পেটে প্রবল ব্যথা হচ্ছিল। চিকিৎসার জন্য রামপুরহাটে ডাক্তার অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়ের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। পরীক্ষা করার পর ডাক্তার তাকে দুটি ইনজেকশন দিতে বলেন। চিকিৎসকের চেম্বারে থাকা এক যুবক দু’টি ইনজেকশন দেন। ইনজেকশন দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বুদ্ধদেব আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি দেখে দ্রুত তাকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ডাক্তাররা পরীক্ষা করে বুদ্ধদেবকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।'
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, 'সঠিক চিকিৎসা না হওয়া এবং ভুল ইনজেকশনের কারণেই ছেলের মৃত্যু হয়েছে।' এরপর শিশুটির মৃতদেহ নিয়ে ওই ডাক্তারের চেম্বারের সামনে পৌঁছন পরিবারের সদস্যরা। মৃতদেহ রেখে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। ওই মৃত বালকের পরিবার আরও অভিযোগ করে, 'চেম্বারের সামনে শিশুর মৃতদেহ রাখা থাকলেও অভিযুক্ত চিকিৎসক রোগী দেখা বন্ধ করেননি।' এতেই আগুনে ঘি পরে! এই ঘটনাতেই ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে, বলে জানান বিক্ষোভকারীরা।
অন্যদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে রামপুরহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কোনোমতে পরিস্থিতি সামাল দেয়। এরপর পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে। বালকের মৃতদেহটি পোস্টমর্টেম করার জন্য রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিশ জানায় পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পেলেই মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত ভাবে জানা সম্ভব। তবে এই মৃত্যুর ঘটনায় বালকটির পরিবার রামপুরহাট থানায় এদিন বিকেল পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়াও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।