উত্তরাখন্ড, নিউজ ডেস্ক: পাহাড়ি রাস্তা মানেই একদিকে অসাধারণ সৌন্দর্য, অন্যদিকে প্রতিমুহূর্তে লুকিয়ে থাকা বিপদ। মেঘে ঢাকা পাহাড়, আঁকাবাঁকা রাস্তা আর তার পাশেই গভীর খাদ। তবুও সব ঝুঁকিকে উপেক্ষা করে প্রতিদিন বহু মানুষ এই পাহাড়ের সৌন্দর্যের টানে এসে থাকেন। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কোথাও মাটি সরে যাচ্ছে, আর কোথাও রাস্তার বুকে তৈরি হয়েছে ফাটল। উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি পথে ঠিক এমনই ছবি উঠে এসেছে।
উত্তরাখণ্ডের পানিওয়ালা ব্যান্ড এলাকায় বারবার ভূমিধস এবং রাস্তা নিচে বসে যাওয়ার ঘটনায় দেরাদুন-মুসৌরি মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। সূত্রে খবর, ওই এলাকায় রাস্তার একটি অংশ আগের থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। কিন্তু নতুন করে ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় রাস্তাটি আরও সংকীর্ণ ও বিপদযুক্ত হয়ে পড়েছে। যার ফলে যানবাহন চলাচলে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিশেষকরে যানজটপূর্ণ এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ অতিরিক্ত বেশি থাকায় যেকোনো সময়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।
তবে, সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় হল রাস্তাটির সুরক্ষার জন্য পূর্বে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল সেটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছুদিন আগে পূর্ত বিভাগের তরফে পানিওয়ালা ব্যান্ড এলাকায় নিরাপত্তা জাল বসানো হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে ভূমিধসের ফলে সেই জাল গুলির বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এরফলে পাহাড়ের ঢাল থেকে মাটি ও পাথর নেমে আসার ঝুঁকি নিয়ে নতুন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বর্ষাকালে উত্তরাখণ্ডের ভূমিধসের ঘটনা প্রায় সামনে আসে। বৃষ্টির জেরে পাহাড়ের মাটি আলগা হয়ে গেলে তা রাস্তার বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সম্প্রতি, নেপালে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ দুর্ঘটনা নতুন করে পাহাড়ি এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। পানিওয়ালা ব্যান্ডের ঘটনাও সেই আশঙ্কাকে সামনে এনেছে। প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বহু পর্যটক এই পথ ব্যবহার করেন।
ফলে, রাস্তার ক্ষতিগ্রস্ত অংশে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা প্রশাসনের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ। একইসঙ্গে রাস্তার ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামত করা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে মনে করা হয়েছে। কারণ পাহাড়ি পথে একটি ছোট ধস কখন বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে, তা আগের থেকে বলা যায় না। তাই দেরাদুন-মুসৌরি মহাসড়কের এই পরিস্থিতি আপাতত প্রশাসনের কাছে বড় সতর্কবার্তা।