মধ্যমগ্ৰাম, নিউজ ডেস্ক: চেনা রেস্তোরাঁ। প্রতিদিনের মতোই মানুষের ভিড়। কেউ বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে, কেউ পরিবার নিয়ে, আবার কেউ এসেছে শুধুমাত্র পছন্দের জায়গায় পছন্দের খাবার খাওয়ার জন্য। বাইরের থেকে দেখলে সবটাই নিখুঁত। বেশ আলো ঝলমলে পরিবেশ, কাউন্টারে সারি সারি খাবার সাজানো, কোথাও কোনও অস্বাভাবিকতার চিহ্ন নেই। কিন্তু দরজা পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতে বদলে গেল পুরো ছবি । হঠাৎ সেখানে পৌঁছে গেল প্রশাসনের দল। এরপর তল্লাশি চালাতে সামনে এল এমন কিছু তথ্য, যা স্বাভাবিকভাবেই সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে।
সূত্রে খবর, মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের যশোর রোডের কাছে অবস্থিত স্টার মলের একাধিক ফুড কোর্টে আকস্মিকভাবে যৌথ অভিযান চালায় খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর, পুরসভা ও প্রশাসন। মলের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় তল্লাশি চালিয়ে ছত্রাক ধরা পচা মাংস, মেয়াদ উত্তীর্ণ পানীয় ও খাবারের প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অভিযোগ, সরকারি আধিকারিকদের দেখে কয়েকটি ফুড কোর্টের কর্মীরা ওই খাদ্যসামগ্রী ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এমনকি, তল্লাশির সময় একাধিক ফুড লাইসেন্স নিয়েও গরমিল দেখা যায়। এরপর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে কয়েকজন ব্যবসায়ীর লাইসেন্স বাতিল করা হয়।
প্রশাসনের নজরে এসেছে আরও বেশ কিছু বিষয়। কোথাও দীর্ঘ সময় ধরে কাঁচা মাংস ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল, আবার কোথাও খাবারের মান নিম্নমানের ছিল বলে অভিযোগ। এর পাশাপাশি খাবার সংরক্ষণ, রান্না এবং পরিবেশনের ক্ষেত্রেও যথাযথ নিয়ম পালন করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। যে মলে প্রতিদিন বহু সংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন, সেখানে এমন পরিস্থিতি সামনে আসায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এই ঘটনা শুধুমাত্র মধ্যমগ্রামে নয়। একই দিনে উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার একটি রেস্তরাঁয় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪০ কেজি পচা মাংস উদ্ধার করা হয়। তারমধ্যে মুরগি ও খাসির মাংস মিশ্রিত ছিল বলে জানা গিয়েছে। রেস্তোরাঁর কর্মীদের দাবি, মাংসগুলি ফেলে দেয়ার জন্য রাখা হয়েছিল। যদিও খাদ্য দফতরের তরফ থেকে সেই ব্যাখ্যা গ্রহণ করা হয়নি। এরপর ২৪ ঘন্টার মধ্যে আসল কারণ তুলে ধরার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সাথে সন্তোষজনক উত্তর না মিললে রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনাগুলির সঙ্গে ফিরে এসেছে ২০১৮ সালের ভয়াবহ ভাগাড়কাণ্ডের স্মৃতি। সে সময় বাদুড়িয়া থেকেই টন টন পচা মাংস উদ্ধার করার ঘটনা সামনে এসেছিল। রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। তদন্তে মৃত পশুর মাংস বাজারে সরবরাহের ভয়াবহ অভিযোগ সামনে আসে। এই ঘটনায় একাধিক রেস্তোরাঁ ও হোটেলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে 'ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ'কে সামনে রেখে রাজ্য জুড়ে চলছে খাদ্য সুরক্ষার অভিযান। ফলে, প্রশাসনের এই তল্লাশি আর কি কি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনে, সেদিকেই নজর।