নদিয়া, নিউজ ডেস্ক: পঞ্চায়েত স্তরে দলবিরোধী কাজের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি এবং ভিনরাজ্যে বিরোধীদের বিরুদ্ধে আইনি তৎপরতা এই দুইয়ের টানাপোড়েনে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ তথা জেলা সভাপতি মহুয়া মৈত্র। একদিকে দলেরই বিক্ষুব্ধ অংশের ক্ষোভের মুখে পড়ে তাঁর গাড়ি ঘিরে নজিরবিহীন বিক্ষোভের ঘটনা ঘটল চাপড়ায়, অন্যদিকে বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে তেলঙ্গানায় এফআইআর দায়ের হওয়ায় নদিয়ার রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।
দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে অনাস্থা প্রস্তাব আনা সদস্যদের সরাসরি দল থেকে বহিষ্কারের বার্তা দিয়েছিলেন মহুয়া মৈত্র। সামাজিক মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট জানান, কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতে যারা দলের সঙ্গে ‘বেইমানি’ করবে, তাদের তৃণমূলের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।
বিশেষ করে তেহট্ট ১ নম্বর ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতিতে বিরোধীদের সঙ্গে হাত মেলানো ৬ জন সদস্য-সহ অন্যান্য বিক্ষুব্ধদের সাসপেন্ড করার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। এই কড়া বার্তার পরের দিনই চাপড়ায় দলীয় কর্মিসভায় যোগ দিতে গেলে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।
সাংসদের গাড়ি আটকে কালো পতাকা হাতে রাস্তায় শুয়ে পড়ার চেষ্টা করে বিক্ষোভকারীরা। সাংসদের গাড়ি লক্ষ্য করে কিল-ঘুষি ও ধাক্কাধাক্কির পাশাপাশি ওঠে ‘চোর চোর’ স্লোগানও।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও পলাশীপাড়ার বিধায়ক রুকবানুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে সভা শেষ করেন মহুয়া। পরে তিনি দাবি করেন, এই বিক্ষোভ তৃণমূল ছেড়ে বিজেপির ‘বি-টিমে’ যাওয়া জেবের শেখের অনুগামীদের কাজ এবং স্রেফ সংবাদমাধ্যমের নজর কাড়তেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।
দলীয় অসন্তোষের সমান্তরালে বিজেপির সঙ্গে সংঘাতও আইনি মোড় নিয়েছে। গত ১৪ অগস্ট রাতে কৃষ্ণনগর সার্কিট হাউজের সামনে সাংসদকে উদ্দেশ্য করে বিক্ষোভ দেখানোর ঘটনায় তেলঙ্গানার সেকেন্দ্রাবাদের মহানকালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কৃষ্ণনগর শহর যুব মোর্চার সভাপতি রাজু রক্ষিতের বাড়িতে নোটিস পাঠিয়ে হাজিরা দিতে নির্দেশ দিয়েছে সেকেন্দ্রাবাদ পুলিশ। নোটিস পাওয়ার পর রাজু রক্ষিতের দাবি, তাঁরা কেবল সার্কিট হাউজের বাইরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে স্লোগান দিয়েছিলেন, সাংসদের মুখোমুখিও হননি।
মাত্র একদিনের ব্যবধানে ভিনরাজ্যে তলব করার বিষয়টিকে রাজনৈতিক হেনস্থা দাবি করে তিনি জানান, পুরো বিষয়টি দলীয় নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে এবং এর মোকাবিলা আইনগতভাবেই হবে। বিজেপি নেতৃত্বের পাল্টা তোপ, রাজনৈতিক প্রচার ও বিভ্রান্তি তৈরি করতেই সাংসদ প্রশাসনকে ব্যবহার করে এমন পদক্ষেপ নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিরোধী শিবিরের পাল্টা চাপের মাঝে কৃষ্ণনগরের রাজনীতিতে পারদ এখন বাড়ছে ক্রমশ।