জলপাইগুড়ি, নিউজ ডেস্ক - জলপাইগুড়ি পুরসভায় আচমকাই এক সুটকেসকে ঘিরে তৈরি হলো তীব্র রহস্য। দীর্ঘ প্রায় তিন সপ্তাহ পর সোমবার বিকেলে আচমকা পুরসভায় হাজির হলেন তৃণমূলের চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কয়েকজন অনুগামী। আর তাঁদের সঙ্গে পুরসভায় ঢোকে একটি বড় সুটকেস। কয়েকঘন্টা পর চেয়ারম্যান পুরসভা থেকে বেরিয়ে গেলেও তাঁর চেম্বারে পড়ে থাকে সুটকেসটি। ব্যাস, তারপরেই শুরু জল্পনা।
সুটকেসটি কার? তার ভিতরে কি রয়েছে? কেনইবা চেয়ারম্যানের ঘরে রেখে যাওয়া হল? এই প্রশ্ন ঘুরতে থাকে পুরসভা চত্বরে। এমনকি সুটকেস এ করে পুরসভার গুরুত্বপূর্ণ ফাইল সরিয়ে ফেলা হতে পারে, এমন আশঙ্কার কথাও ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুরসভায় হাজির হন কয়েকজন বিজেপি কর্মী। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পৌঁছে যায় কোতয়ালি থানার পুলিশও।
এরপর রাত বাড়তে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়। শেষপর্যন্ত পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার ,অফিস সুপারিন্টেন্ডেন্ট এবং কয়েকজন কর্মীর উপস্থিতিতে চেয়ারম্যানের চেম্বার খোলা হয়। পুলিশের সামনে উদ্ধার করা হয় সেই 'রহস্যময়' সুটকেস। কিন্তু সুটকেস খুলতে বদলে গেল গোটা ছবিটা! ভিতরে নেই কোনও গোপন নথি, নেই পুরসভার ফাইল, নেই কোনও সন্দেহজনক জিনিসও। পাওয়া গেছে বেশ কিছু জামাকাপড়। পরে জানা যায় সুটকেসটি আসলে চেয়ারম্যানের গাড়ির চালকের। চেয়ারম্যানের সঙ্গে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ ভুল করে সেটি তাঁর চেম্বারে রেখে গিয়েছিলেন বলে দাবি পুরসভা কর্তৃপক্ষের।
জলপাইগুড়ি পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার দেবদুলাল পাত্র জানান, পরে ফোন করে জানানো হয়েছিল যে শুটকেস্টের মধ্যে ওষুধ রয়েছে এবং সেটি প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক বিতর্কের পরিস্থিতিতে সুটকেসটি পরীক্ষা না করে বাইরে পাঠানো ঠিক হবে না বলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই পুলিশের উপস্থিতিতে সেটি খোলা হয়, এবং যার সুটকেস তাকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে, দীর্ঘদিন পুরসভায় আসা নিয়ে চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “আপনারা জানেন, পারিবারিক কারণে একটু বাইরে ছিলাম। মাঝখানে একদিন এসেছিলাম। আজকে এসেছিলাম, পৌরসভার অস্থায়ী কর্মীদের বেতন যাতে ক্লিয়ার হয়, সেজন্য সইসাবুদ করলাম। পৌরসভার নাগরিক পরিষেবা অক্ষুণ্ণ রাখতে যা করার দরকার, সেগুলো করছি।” পৌরসভায় পুলিশ আসা নিয়ে সৈকতের বক্তব্য, “পুলিশ কেন এসেছে, তা নিয়ে আমার ধারণা নেই।”
অর্থাৎ, সুটকেসকে ঘিরে রাতভর রহস্য তৈরি হয়েছিল শেষ পর্যন্ত তার ভিতর থেকে বেরোলো শুধুই জামাকাপড়। তবে, এই ঘটনাকে ঘিরে জলপাইগুড়ির পুরসভার রাজনৈতিক বিতর্কযে আরও বাড়লো, তা বলাই যায়।